Latest News

রায়গঞ্জের সেফ হোমে খাবার ও জল না পেয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করোনা রোগীদের

রোগীদের অভিযোগ, সকালে প্রাতরাশ হিসেবে শুধুই দু-তিনটে রুটি বা পরোটা দেওয়া হয়। তার সঙ্গে কোনও সবজি বা ডাল থাকে না। দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বেলা তিনটের পর। ভাত আর মুখে তোলার অযোগ্য সবজি। রাতের খাবার দিতে দিতে সাড়ে দশটা-এগারোটা। সেই খাবারও অত্যন্ত নিম্নমানের।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: নেই পানীয় জল। খাবার দেওয়া হচ্ছে না সঠিক সময়ে। শৌচালয়ের অবস্থাও তথৈবচ।  দুঃসহ অবস্থার মধ্যে কাটছে দিন। এমনটাই অভিযোগ কোভিড আক্রান্ত রোগীদের। সহ্য করতে না পেরে সোমবার বিকেলে পথে নেমে পড়লেন তাঁরা। পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন।

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় করা হয়েছে সেফ হোম। উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত রোগীদের রাখা হয়েছে এখানে। কিন্তু অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে এখানকার রোগীদের। মিলছে না পানীয় জল। প্রতিবাদ জানাতে হোম থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। খবর পেয়ে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উত্তর দিনাজপুরের জেলা সদর রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় জেলা ক্রেতা সুরক্ষা ভবনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে এই কোভিড সেফ হোম। উপসর্গ নেই, অথচ করোনা পজিটিভ এমন মানুষদেরই ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এখানে। এই সেফ হোমের চরম অব্যাবস্থা নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন করোনা আক্রান্তরা। হোমে থাকা রোগীদের অভিযোগ, করোনা আটকাতে আমিষ বা পুষ্টিকর খাবার খেতে বলা হচ্ছে। অথচ তেমন কোনও খাবারই দেওয়া হয় না এখানে। কোনও নির্দিষ্ট সময় না মেনেই তিনবেলা নিরামিষ খাবার দেওয়া হয়।

তাঁরা জানান, সকালে প্রাতরাশ হিসেবে শুধুই দু-তিনটে রুটি বা পরোটা দেওয়া হয়। তার সঙ্গে কোনও সবজি বা ডাল থাকে না। দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বেলা তিনটের পর। ভাত আর মুখে তোলার অযোগ্য সবজি। রাতের খাবার দিতে দিতে সাড়ে দশটা-এগারোটা। সেই খাবারও অত্যন্ত নিম্নমানের। তবে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা হল পানীয় জল নিয়ে। একজন মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টায় মাত্র দু’টি পাউচ অর্থাৎ ৪০০ মিলিলিটার পানীয় জল দেওয়া হয়। এই তীব্র গরমে প্রবল পানীয় জলের কষ্টে ভুগছেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা।

সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটের সময় দুপুরের খাবার সরবরাহ করতে আসলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এই কোভিড সেফ হোমে থাকা ৬০ জন করোনা পজেটিভ মানুষ। তারা হোম থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, চরম এই অব্যবস্থায় থাকতে না পেরে রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সেফ হোম থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে তাঁকে আবার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হেমতাবাদের সেফ হোমে রেখে আসে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা।

দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর ঘটনাস্থলে আসেন রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা। তিনি আশ্বাস দেন করোনা রোগীদের সমস্যাগুলি সমাধানের সমস্তরকম চেষ্টা হবে। তিনি বলেন, ‘‘রোগীদের খাবার জল না পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আগামীকাল থেকে যাতে এমন ঘটনা আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। বরাদ্দ অর্থের মধ্যেই রোগীদের যথোপযুক্ত খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। পানীয় জলের অভাব দূর করা হবে। বাইরে থেকে সাফাই কর্মীদের নিয়ে এসে শৌচাগার সাফাইয়ের কাজও করা হবে।’’ বিডিওর আশ্বাসে অবশেষে অবরোধ ওঠে।’’

গত শুক্রবার দিনভর জল না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে রাস্তায় এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। চিকিৎসা, খাবার, অন্যান্য পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ তো ছিলই। তার উপর দিনভর জল না পেয়ে সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালের বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসাধীন রোগীরা। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় জলপাইগুড়িতে।

You might also like