Latest News

রেঞ্জার সঞ্জয় দত্তের বদলি রদের দাবিতে উত্তাল হল বেলাকোবা রেঞ্জ অফিস

আন্দোলনে যোগ দেওয়া মানুষদের অনেকেই এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। যদিও রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, ‘‘ওখানে যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁরা সবাই গ্রামবাসী। এদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে অভিযানের জেরে রেঞ্জ অফিসারের বদলি ঘিরে শনিবার সকাল থেকে বিক্ষোভে উত্তাল হল বেলাকোবা রেঞ্জ অফিস।

শনিবার সকাল হতেই সৎ ও নির্ভীক বলে পরিচিত সঞ্জয়বাবুর বদলি রদের দাবিতে দলে দলে মানুষ বেলাকোবা রেঞ্জ অফিসের সামনে চলে আসেন। বদলি রদের দাবিতে স্লোগান ওঠে। আন্দোলনে যোগ দেওয়া মানুষদের অনেকেই এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। যদিও রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, ‘‘ওখানে যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁরা সবাই গ্রামবাসী। এদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।’’

শুক্রবার বেলাকোবার রেঞ্জার সঞ্জয় দত্তর বদলির খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভ বাড়ছিল এলাকায়। রেঞ্জ অফিসে এসেছিলেন বৈকুণ্ঠপুরের বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা। তাঁরা জানিয়ে গিয়েছিলেন সঞ্জয়বাবুর বদলির আদেশ রদ না হলে শনিবার সকাল থেকে রেঞ্জ অফিস অচল করে দেওয়া হবে। বদলি রদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ চেয়ে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূল প্রভাবিত ওয়েস্টবেঙ্গল ফরেস্ট সার্ভিস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনও। সংগঠনের তরফে চেয়ারম্যান অমল সিনহা বনমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে জানান, জঙ্গলদস্যুদের ত্রাস এই ফরেস্ট অফিসার। আবার বনকর্মীদের কাছে তিনি আদর্শ। স্বপ্না বর্মনই হোন বা যে কারও বাড়িতে মজুত করা অবৈধ কাঠ উদ্ধার বনকর্মীদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাই এই বদলির ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করুন বনমন্ত্রী।

গত ১৩ জুলাই বাড়িতে অবৈধ কাঠ মজুত রাখার অভিযোগে আ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে অভিযান চালান বেলাকোবার রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত। অভিযোগ মজুত কাঠের বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি স্বপ্না বর্মনের পরিবার। তাই  বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য ৩০ দিনের নোটিস দেন সঞ্জয়বাবু। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী তখন সঞ্জয়বাবুর পাশে দাঁড়ালেও ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী। কিন্তু রাজবংশী সমাজ এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জানার পরেই বৃহস্পতিবার  স্বপ্নার বাড়ি ছুটে যান বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়। আবার ওই দিনই স্বপ্নাকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বস্ত করেন। পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বপ্না খুব ভাল মেয়ে। বন দফতর ওর বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে কাঠ রাখার মামলা করেছে। আমি আগে জানতাম না। জানতে পেরেই আমি ওকে ফোন করি। কাউকে কিছু না জানিয়েই স্বপ্নার বাড়িতে অভিযান হয়েছে। যে করেছে তাঁকে অন্য জায়গায় বদলির ব্যবস্থা হচ্ছে।’’

শুক্রবারই পাহাড়ে বদলি করে দেওয়া হয় এই সরকারি আধিকারিককে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ বাড়ে এলাকায়। কারণ দক্ষ অফিসার হিসেবে রীতিমতো সুনাম কুড়িয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত। শুধু অবৈধ কাঠ পাচার রুখে দেওয়াই নয়, প্রাণী দেহাংশের চোরাকারবারীদের কাছেও ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আবার বিকল্প রুজির খোঁজ দিয়ে জঙ্গল এলাকার বাসিন্দাদের বন সংরক্ষণে উৎসাহিতও করেছিলেন।  এই সবকিছু মিলিয়েই বেলাকোবার জঙ্গল এলাকায় তুমুল জনপ্রিয়তা এই বন আধিকারিকের।

 

You might also like