Latest News

ছিটমহলের জমির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন চেয়ে আইনের পথে লড়াইয়ের ডাক জলপাইগুড়িতে

বুধবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার দক্ষিণ বেরুবাড়ির সাতকুড়াতে ভারতীয় ছিটমহল ছিন্নমূল নাগরিক কমিটির বার্ষিক সম্মেলন হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের সময় নিজেদের পৈত্রিক জমিও বিনিময় হয়। কিন্তু ২৩৪ টি পরিবার আজও সেই জমির বিনিময়ে প্রাপ্য ক্ষতিপুরণ বা পুনর্বাসন কিছুই পাননি বলে অভিযোগ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সম্মেলন মঞ্চ থেকে এবার আইনের পথে লড়াইয়ের ডাক দিলেন ছিটমহল ছিন্নমূল উদ্বাস্তু কমিটির সদস্যরা। সময়সীমাও বেঁধে দিলেন সরকারকে।

ছিটমহলের জমির ক্ষতিপুরণ এবং পুনর্বাসন না দিলে এবার আইনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতীয় ছিটমহল ছিন্নমূল উদ্বাস্তু কমিটির সদস্যরা। বুধবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার দক্ষিণ বেরুবাড়ির সাতকুড়াতে ভারতীয় ছিটমহল ছিন্নমূল নাগরিক কমিটির বার্ষিক সম্মেলন হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের সময় নিজেদের পৈত্রিক জমিও বিনিময় হয়। কিন্তু ২৩৪ টি পরিবার আজও সেই জমির বিনিময়ে প্রাপ্য ক্ষতিপুরণ বা পুনর্বাসন কিছুই পাননি বলে অভিযোগ।

স্বাধীনতার আগে কোচবিহারের মহারাজা জগদীপেন্দ্র নারায়ণের অধীনে থাকা জমির ক্ষতিপুরণ বা বর্গাদারদের পুনর্বাসনের দাবিতে আইনের দ্বারস্থ হতে চলেছেন ভারতীয় ছিটমহল ছিন্নমূল নাগরিক কমিটির নেতা তথা ৭৮ নম্বর গরাতি ছিটমহলের জমিদার ঘুরন মিয়াঁর উত্তরপুরুষ ইসমাইল মিয়াঁ।

কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি থানার অন্তর্গত ৭৮ নম্বর গরাতি ছিটমহলের জমিদার ছিলেন ইসমাইল মিয়াঁর পূর্বপুরুষ ঘুরন মিয়াঁ। বর্তমানে সেই জমির মালিক ইসমাইল মিয়াঁ। সেই জমিতে ২৩৪ জন বর্গাদার থাকতেন। কিন্তু বাংলাদেশের ভেতর জমিগুলি ছিটমহলের আকারে ছিল। ঘুরন মিয়াঁ সহ তাঁর পরিবারের অনেকেই খুন হয়েছিলেন বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হাতে। প্রাণে বাঁচতে ঘুরন মিয়াঁর ছেলে ইসমাইল মিয়াঁ এবং অন্য কয়েকজন বর্গাদার সেই জমি ছেড়ে ১৯৬৮ সালে মুল ভারতীয় ভূখণ্ডে চলে আসেন।

এরপর দফায় দফায় ১৯৬৮-১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এই ২৩৪ টি পরিবার ছিটমহল ছেড়ে ভারতীয় মূল ভুখণ্ডে চলে আসেন। এদের বেশিরভাগ থিতু হন জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত মানিকগঞ্জের দক্ষিণ বেরুবাড়িতে। বাকিরা উত্তরবঙ্গ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছেন।

ইসমাইল মিয়াঁ বলেন, ‘‘এত বছর ধরে আমি এবং অন্য বর্গাদারেরা জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের জেলা প্রশাসন, ভুমি দফতর এবং নবান্নকে চিঠি দিয়ে জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছি। পরে ছিটমহল বিনিময় হওয়ার সময় গরাতি ছিটমহলে আমার পারিবারিক জমিও বিনিময় করে দেওয়া হয়। তা নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আমার এবং বর্গাদারদের দাবি, জমির ক্ষতিপুরণ ও পুনর্বাসন দেওয়া হোক। তাই জেলা থেকে রাজ্যকে জানিয়েও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরমধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে এই দাবিকে সামনে রেখে আইনি লড়াইতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’

ইসমাইল মিয়াঁদের পারিবারিক এই জমি ১৯৪৯ সালে ভারতের মধ্যে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলেন ঘুরন মিয়াঁ, ইসমাইল মিয়াঁরা। কিন্তু ছিটমহল বিনিময়ের সময় কেন ইসমাইল মিয়াঁদের সেদিনের অবদানের কথা স্বীকার না করে জমির পুনর্বাসন ও ক্ষতিপুরণ দেওয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

এদিকে প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের অফিস ও ভুমি দফতর থেকে ২০১৭ সাল থেকে এই বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে নবান্নকে দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে এই বিষয়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ছিটমহল বিনিময় হওয়ায় এখন বিষয়টি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্র সরকার ও বিদেশ মন্ত্রকের আওতায় চলে গিয়েছে।

জলপাইগুড়ির জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি বলেন, ‘‘আমাকে এই বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। খোঁজ না নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারব না।’’

You might also like