Latest News

আদালতের রায়ে ফের ময়নাতদন্ত রায়গঞ্জে পুলিশ হেফাজতে মৃত যুবকের

পাশাপাশি মৃত অনুপ কুমার রায়ের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জ থানার পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অপহরণ (৩৬৩) ও খুনের (৩০২) মামলাও শুরু করেছে ইটাহার থানার পুলিশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: আদালতের রায়ে শনিবার রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হল পুলিশ হেফাজতে মৃত যুবক অনুপকুমার রায়ের।

মৃত যুবকের মা গীতা রায়ের আবেদনের ভিত্তিতে ইটাহার থানার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক আদালতের দারস্থ হন। রায়গঞ্জ সিজিএম আদেশ দেন, মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পুনরায় অনুপকুমার রায়ের দেহের ময়নাতদন্ত করা হোক। আদালত আরও নির্দেশ দেয় আগের ময়নাতদন্ত যে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হয়েছিল সেই চিকিৎসক দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সময় থাকতে পারবেন না। সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন দুপুরে হল ময়নাতদন্ত।

পাশাপাশি মৃত অনুপ কুমার রায়ের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জ থানার পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অপহরণ (৩৬৩) ও খুনের (৩০২) মামলাও শুরু করেছে ইটাহার থানার পুলিশ। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসপ্রীত সিং বলেন, ‘‘একটি ডাকাতির গ্যাংয়ের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অনুপের নাম করেছিলেন পুলিশ হেফাজতে থাকা কয়েকজন দুষ্কৃতী। তাই তাকে থানায় তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপরেই সে অসুস্থ বোধ করে। পরে মারা যায়। তার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জ থানার ৫ জন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।’’

বুধবার বিকেলে ইটাহার থানার নন্দনগ্রামের বাসিন্দা অনুপকে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ওই যুবকের মা অভিযোগ করেন বিজেপি করার ‘অপরাধে’ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর লকআপে পিটিয়ে মারে। মৃত্যুর পর থানা থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরে বড় বড়ুয়া নামে এক জায়গায় ওই যুবকের দুর সম্পর্কের এক ভাইকে দিয়ে মৃতদেহ সনাক্ত করিয়ে তড়িঘড়ি বুধবার রাতেই ময়নাতদন্ত করায় পুলিশ৷ মৃতদেহও রাতেই সৎকারের চেষ্টা করে। কিন্তু বাড়ির লোক ও পড়শিরা জেনে ফেলায় তা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে।

অনুপের মা গীতাদেবী অভিযোগ করেন, ‘‘যখন পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেছিল, তখন সুস্থই ছিল সে। পুলিশই থানায় নিয়ে পিটিয়ে মেরেছে তাকে।’’ ভাল খেলোয়ার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি ছিল ওই যুবকের। ফুটবল, বাস্কেটবল খেলায় একাধিক মেডেল ও ট্রফি সাজানো রয়েছে তাঁর ঘরে। পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরির খোঁজে ছিল বলে জানিয়েছেন অনুপের বাড়ির লোক। বিজেপির কর্মী হিসেবেই তাঁকে চেনেন এলাকার মানুষ।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ীও জানিয়েছিলেন, থানায় পিটিয়ে মারার পর বুধবার রাতেই তড়িঘড়ি তাঁর মৃতদেহ কড়া পুলিশি পাহারায় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। তাই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

এরপরেই মৃত যুবকের মা গীতাদেবীর আবেদনের ভিত্তিতে ইটাহার থানার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক আদালতের দারস্থ হন। আদালতে নির্দেশে শনিবার ফের ময়নাতদন্ত করা হল। তার আগে এনকোয়েস্টের সময় উপস্থিত বিজেপি নেতা প্রদীপ সরকার জানান, মৃতের শরীরে মারের দাগের পাশাপাশি অনেকগুলি জায়গায় সেলাইয়ের দাগও দেখেছেন তাঁরা। এর থেকে তাঁদের সন্দেহ গুলিও করা হয়েছিল ওই তরুণকে।

পুলিশ হেফাজতে এই মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো তেতে উঠেছে রায়গঞ্জ শহর।

You might also like