Latest News

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের তথ্য গোপন রুখতে ভর্তির সময় আধার কার্ড জমা নেওয়া হবে বর্ধমান মেডিক্যালে

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে যে টাকা হাসপাতাল আয় করে তা থেকে হাসপাতালের অত্যাধুনিক মেশিন কেনা, ওষুধ কেনা বা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু দিন দিন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে সেই আয় কমছে। তাই এবার নতুন ভাবনা।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালে সমস্ত পরিষেবাই মেলে বিনামূল্যে। তাই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেও সরকারী হাসপাতালে এসে অনেকেই তা গোপন করে যাচ্ছেন। অভিযোগ এমনটাই। ফলে মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এবার তাই রাশ টানতে উদ্যোগী হলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পয়লা নভেম্বর থেকে রোগী ভর্তির সময় আধার কার্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তাহলে আধার কার্ডের নম্বর দিয়েই জানা যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বাস্থ্যসাথীর আওতাও আছেন কি না।

বহু সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে। তাঁরা বাইরে চিকিৎসা করালে এই কার্ড দিয়েই চিকিৎসা করান। কিন্তু হাসপাতালে যেহেতু বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়, তাই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেও অনেকেই তা গোপন করে যান বলে অভিযোগ উঠছে। বারবার এমন ঘটনায় হাসপাতালের আয়ে টান পড়ছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে যে টাকা হাসপাতাল আয় করে তা থেকে হাসপাতালের অত্যাধুনিক মেশিন কেনা, ওষুধ কেনা বা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু দিন দিন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে সেই আয় কমছে। তাই এবার নতুন ভাবনা।’’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এবার রোগী ভর্তির সময় আধার কার্ডের নম্বর জেনে নেওয়া হবে। তারপর সেই নম্বর দিয়েই জেনে নেওয়া যাবে ওই নামে কোনও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আছে কি না। যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকে তাহলে রোগীর পরিজনদের কার্ড দেওয়ার জন্য বলা হবে। মাত্র ১০ শতাংশ রোগী হাসপাতালে এসে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা নেয় বলে আক্ষেপ করেন হাসপাতাল সুপার।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যাকাউন্টস অফিসার শুভঙ্কর বিশ্বাস জানান, গত আর্থিক বছরে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে আড়াই কোটি টাকা আয় হয়েছিল। কিন্তু এবার এই অঙ্কে অনেক ফারাক রয়েছে। দিন দিন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার কমছে।  তিনি বলেন, ‘‘যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিয়ে কেউ চিকিৎসা করান তাহলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি ভাড়া- সহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়। কিছু মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের তথ্য গোপন করে এইসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দেখিয়ে ভর্তি করালে দু’পক্ষই লাভবান হবে।’’

You might also like