Latest News

কোভিডের মধ্যেও মুনাফা করেছে কেন্দ্র, রাজ্য বাজেটের ছত্রে ছত্রে মোদী সরকারের সমালোচনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বাজেটের পাতায় পাতায় তীব্র সমালোচনা করা হল নরেন্দ্র মোদী সরকারের। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়, রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া সব কিছু নিয়েই রাজ্যে বাজেটের ছত্রছত্রে তীক্ষ্ণ সব বাক্যবন্ধ লেখা রয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে পরিসংখ্যানও।

রাজ্য বাজেটে লেখা হয়েছে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল, ডিজেল থেকে তিন লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। যার ফলে এই সঙ্কটের মধ্যেও মানুষের উপর বোঝা চেপেছে।

তথ্য তুলে লেখা হয়েছে গত ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত আট বার পেট্রোলের দাম বেড়েছে। জুন মাসেই বেড়েছে ছ’বার। তারমধ্যে এক সপ্তাহে বেড়েছে চার বার। অনেকের মতে, এত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝাতে চেয়েছেন, কোভিড পরিস্থিতি এমনিতেই সাধারণ মানুষকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। বহু মানুষের কাজ চলে গিয়েছে। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার মুনাফা করেছে। ঘুর পথে মানুষের উপর বোঝা চাপিয়েছে।

এও অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ঘুর পথে সেস আদায় করে রাজ্যগুলিকে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে। যা আসলে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।

রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়েও একটি আলাদা প্যারাগ্রাফ খরচ করা হয়েছে বাজেটে। বলা হয়েছে ২০২০ সালের মে মাসে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার প্রতি দাম ছিল ৫৪৮ টাকা ৫০ পয়সা। ২০২১ সালের ১ জুলাই তা বেড়ে হয়েছে ৮৬১ টাকা। অর্থাৎ ১৪ মাসে দাম বেড়েছে ২৭৬ টাকা ৫০ পয়সা।

এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধিকে একুশের বিধানসভা ভোটে ইস্যু করেছিল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় প্রতিটি জনসভা থেকে বলতেন, “আমি দু’টাকায় চাল দেব আর ৮০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনে সেটা ফোটাতে হবে? এবার ভাল করে বিজেপিকে ফুটিয়ে দিন।” পেট্রোল-ডিজেলের মূল্য হ্রাস নিয়ে দুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা। এদিনই কলকাতায় পেট্রোলের লিটার প্রতি দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত তুলোধুনো করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে।

যদিও বিজেপির অনেকের বক্তব্য, পেট্রোল, ডিজেলের দাম কমানোর সুযোগ রাজ্যের কাছেও রয়েছে। রাজ্য যে যে কর নেয় তাতে কিছুটা ছাড় দিলেই সুবিধা পেতে পারেন মানুষ।

You might also like