Latest News

SSC: পরীক্ষায় না বসেই ২২২ জনের চাকরি, পার্থ বললেন, ‘পাঠান মোগলের টাইমেও অনেক ঘটনা ঘটেছিল’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি নিয়োগ মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বাগ কমিটির রিপোর্ট পেশ হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করে কমিটি যা জানিয়েছে, তাতে আন্দোলিত হয়ে গিয়েছে গোটা রাজ্য! কারণ তাতে বলা হয়েছে, গ্রুপ সিতে ৩৮১ জনকে ভুয়ো নিয়োগ করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ২২২ জন পরীক্ষাতেই বসেননি। আর বাকিরা ফেল করেও চাকরি পেয়েছেন।
যে সময়ে এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি ঘটেছিল তখন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধেয় এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পার্থবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওটা নিয়ে আমি কোনও কথা বলছি না। কারণ আমি তো ওই দফতরের মন্ত্রী নই। যে দফতরের মন্ত্রী সে উত্তর দেবে”। পার্থবাবুকে বলা হয়, যে হেতু ওই সময়ে আপনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তাই আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছি। জবাবে বর্তমান শিল্প মন্ত্রী বলেন, “তাতে কী হয়েছে? পাঠান মোগলের টাইমেও তো অনেক ঘটনা ঘটেছে”।
পার্থবাবু অবশ্য এও বলেছেন, “আমি বাগ কমিটির রিপোর্ট দেখেছি। তবে সম্পূর্ণটা দেখিনি, যখন দেখব তখন বলব। তা ছাড়া আমি এখন শিক্ষা দফতরে নেই, শিক্ষা দফতর কী ভাবে জিনিসটাকে দেখছে, না জেনে দুম করে বলাটা অন্যায় হবে”।

আরও পড়ুন: Arup Biswas: মমতার ছবি ফুটবলারদের ঘরে টাঙাতে বললেন মন্ত্রী অরূপ, অনুপ্রেরণা দিতে পেপ টক

এসএসসি-র (SSC) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এদিন সরকারের তরফে আর কেউ কোনও মন্তব্য করেননি। তবে গোটা বিষয়টা সরকার তথা শাসক দলকে যে অস্বস্তিতে ফেলেছে তা নিয়ে সংশয় নেই।

কী অভিযোগ ছিল এসএসসি গ্রুপ সি (SSC) নিয়োগে?

মূল অভিযোগ, যে প্যানেল তৈরি করে নিয়োগ করা হয়েছে তা ভুয়ো। কার্যত সেটাই এদিন আদালতে পেশ করা রিপোর্টের পরতে পরতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন বাগ কমিটির রিপোর্টে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে মোট ১১ জন এসএসসি কর্তাকে। তাঁরা কারা? এসএসসির প্রোগ্রামিং অফিসার সমরজিৎ আচার্য, চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণময় বন্দ্যোপাধ্যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিব অশোক কুমার সাহা, এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচর্য। এছাড়াও বাগ কমিটির তালিকায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কমিশনের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান শর্মিলা মিত্র, শুভজিত চট্টোপাধ্যায়, শেখ সিরাজউদ্দিন, মহুয়া বিশ্বাস ও চৈতালি ভট্টাচার্য।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যে প্যানেল এই নিয়োগ করেছে তার মেয়াদ ২০১৯ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষের পর এই ভুয়ো নিয়োগ শুরু হয়। শুধু তা নয় কমিটির আইনজীবী অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি ওএমআর সিটে গণ্ডগোল করে এই নিয়োগ করা হয়েছে।

বাগ কমিটি
নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। ওই কমিটির প্রধান করা হয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগকে। তিনি ছাড়া কমিটিতে রাখা হয় মধ্য শিক্ষা পর্ষদের অফিসার পারমিতা রায় ও আইনজীবী অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এসএসসি-র তরফে কমিটিতে রাখা হয় আশুতোষ ঘোষকে।

You might also like