Latest News

প্রধানমন্ত্রীর ৬০ দফা অ্যাকশন প্ল্যান, নাগরিকত্বের জন্য বার্থ সার্টিফিকেট সহ আর কী কী?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের সব মন্ত্রক, দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর(narendra modi) ম্যারাথন বৈঠক হল সোমবার। সেখানে কেন্দ্রের তরফে একটি ৬০ দফা সার্বিক অ্যাকশন প্ল্যান (action plan) পেশ করা হয়েছে। তাতে জন্মের শংসাপত্রের সঙ্গে নাগরিকত্ব যোগ, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দরকষাকষির সময় কর্মসংস্থানের শর্ত রাখা, ফ্যামিলি ডেটাবেস গড়ে তোলা থেকে একটিই পরিবেশ আইন তৈরি-নানা বিষয় রয়েছে।

অ্যাকশন  প্ল্যানে বলা হয়েছে, ভারতে নাগরিকত্বের (citizenship) কোনও নথি-প্রমাণ নেই। এবার থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্মের সার্টিফিকেটের (birth certificate) সঙ্গে যুক্ত করে নাগরিকত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দেওয়া হতে পারে। শীর্ষ সরকারি আমলারা জানিয়েছেন, সব সচিবদের ইনপুট পাঠানো হয়েছে, যার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।  ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা আলাদা করে ২০ সেপ্টেম্বর সচিবদের চিঠি পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানুসারে ‘অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে’, ‘সময় বেঁধে সেগুলির রূপায়ণ’ সুনিশ্চিত করতে বলেছেন।

অ্যাকশন প্ল্যানে জোর দেওয়া হয়েছে মূলতঃ তিনটি ক্ষেত্রে। প্রশাসন চালাতে তথ্য ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো, শিল্প, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, আমলাতান্ত্রিক পরিষেবার মান বাড়ানো।

যেমন, অ্যাকশন প্ল্যানে ব্যবসা বাড়াতে লগ্নি টানার লক্ষ্যে কিছু অনুমতি দেওয়ার বিষয়  পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দশটি ক্ষেত্রে ব্যবসা শুরুর খরচ কমানো, তাকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার স্তরে নিয়ে আসা, ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে অটোমেটিক নোটিফিকেশন, যাবতীয় সরকারি পরিষেবার জন্য একটিই কেন্দ্র রাখা, সময়মতো জমি অধিগ্রহণ, বনজঙ্গল সংক্রান্ত ছাড়পত্রের ব্যবস্থা হলে রাজ্যগুলিকে ইনসেনটিভ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একটিই সার্বিক পরিবেশ পরিচালন আইনের প্রস্তাব রয়েছে যাতে এই সংক্রান্ত বাকি সব আইন মিশে যাবে।

নতুন প্রযুক্তি, তথ্য, পরিসংখ্যান কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের উন্নতির প্রস্তাব আছে। পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের স্কলারশিপ দেওয়া থেকে শুরু করে ডিজিটাল  ব্যবধান ঘোচাতে তাদের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে ট্যাবলেট, ল্যাপটপ তৈরির কথা রয়েছে। জমিজমার নথি, দলিলের ডিজিটাইজেশনের সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের জন্য একাধিক ইনপুট রয়েছে।

গৌবা সচিবদের বলেছেন, বাজেটে বরাদ্দ মূলধনী ব্যয় দ্রুত খরচ করতে হবে যাতে চলতি অর্থবর্ষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়। বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে অনেক মন্ত্রকের অগ্রগতি আশাপ্রদ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আমলাদের কেন্দ্র, রাজ্য দুই স্তরেই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দিয়েছেন। দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একেবারে সাম্প্রতিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁদের সড়গড় হওয়ার কথা বলেছেন। পারফরম্যান্স নির্ভর কাজের উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রক, দপ্তরে টার্গেট বেঁধে কাজ করার কথা বলেছেন।

সব মন্ত্রককে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, তারা পরস্পরের কাজ থেকে শিক্ষা নিয়ে চলুক। যেমন, ক্রীড়ামন্ত্রককে বলা হয়েছে, জাতীয় স্তরে খেলাধূলার মান বাড়াতে তারা ওড়িষার  মডেল অনুসরণ করুক।

৫ বছরের মধ্যে গরিবি দূর করার টার্গেট সামনে রেখে এগতে নীতি আয়োগকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে বলা হয়েছে, নির্মাণ কাজে যুক্ত স্টাফদের থাকার ব্যবস্থার কথা ভাবতে যাতে নতুন করে বস্তি গড়ে না ওঠে। বিভিন্ন মন্ত্রকের উপভোক্তামূলক স্কিমগুলিকে এক ছাতার তলায় আনতে আধারকে কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। একটি পরিবার ডেটাবেস ডিজাইনও তৈরি  করেছে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। সব মন্ত্রক যাতে যাবতীয় সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবহার করতে পারে, বলা হয়েছে তাও।

 

 

 

You might also like