Latest News

পরপর পাঁচ মৃত্যু দু’দিনে, নিঃশব্দে হার্ট অ্যাটাক! আচমকা বুকে চাপ, তারপর সব শেষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জমজমাট বিয়ের আসর। মঞ্চে উঠে বরের গলায় মালা দিচ্ছিলেন তরুণী। আচমকাই বুকে ব্যথা নিয়ে লুটিয়ে পড়লেন। তারপর সব শেষ। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বললেন, হৃদরোগে (Heart Attack) আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু। ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশের লখনউয়েরকাছে ভাদওয়ানা গ্রামে।

মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন যুবক। বিগ্রহ পরিক্রমা করে প্রার্থনা করতে সেই যে বসলেন আর উঠলেন না। ১৫ মিনিট পরে তাঁকে ঠেলতেই নিথর দেহটা গড়িয়ে পড়ল। এখানেও মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক। ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশের কাটনির সাঁইবাবার সন্দির।

দুরন্ত গতিতে চলছে বাস। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন চালক। ঝুঁকে পড়ল মাথা। এদিকে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ততক্ষণে চাপা দিয়েছে একজনকে। জখম শিশু, মহিলা সহ অনেকে। মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশে জব্বলপুর।

Heart attack symptoms: Signs of silent heart attack revealed - are women or  men at risk? | Express.co.uk

দিনকয়েকের মধ্যে পরপর এমন পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে, যাতে অশনি সঙ্কেতই দেখছেন অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টরা। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু অনেক বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জিম করতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে (Heart Attack) মৃত্যু হল কয়েকজন সেলিব্রিটির। জিনগত কারণে বা জন্মগতভাবেও পুরুষ ও মহিলাদের হার্টের রোগ থাকতে পারে। কিন্তু এমন কোনও সমস্যা নেই বা আগাম রোগের লক্ষণও নেই, আচমকাই দুর্বল হয়ে পড়ছে হার্ট বা যন্ত্রণাহীন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, এমন রোগীর সংখ্যা এখন অসংখ্য।

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, হার্টের রোগ নিঃশব্দে বাসা বাঁধছে শরীরে। তারপর একদিন বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো আত্মপ্রকাশ করছে। এক ঝটকাতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। রোগীর চিকিৎসাটুকু করারও সময় পাওয়া যাচ্ছে না।

What is Heart Disease - Heart Research Australia

হার্ট অ্যাটাকে (Heart Attack) মৃত্যু কেন বাড়ছে?

ডাক্তারবাবু বলছেন, আজকের এই গতিময় জীবনে কর্মক্ষেত্রের টেনশন, বাতানুকূল পরিবেশে বসে কাজ করার অভ্যাস, কম পরিশ্রম, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া এবং ধূমপান, পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে সকলকেই ঠেলে দিচ্ছে বিপদের মুখে। তা ছাড়াও রয়েছে ওবেসিটি ও ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস ধরে গেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি চড়চড় করে বেড়ে যাচ্ছে। ডায়াবেটিস থেকে শুধু হার্ট নয় শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ও নিয়ম মেনে না চললে পরবর্তীকালে কিডনি, নার্ভের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চোখের ক্ষেত্রে রেটিনোপ্যাথি কিংবা অন্ধত্বও আসতে পারে। ডায়াবেটিস থেকে যে কোনও রকম কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ৩০ বছরের নীচে মহিলা ও পুরুষরাও এখন ডায়াবেটিসের শিকার। হার্ট ফেলিওর, স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস।

আগে মনে করা হত বয়স্করাই বুঝি হৃদরোগে (Heart Attack) আক্রান্ত হন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিটা অন্য। হার্টের যে কোনও অসুখ হানা দিতে পারে যে কোনও বয়সে। ইদানীংকালে কমবয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, এ দেশের কমবয়সি ও কর্মব্যস্ত গোষ্ঠীর মধ্য়েই কার্ডিয়াক অ্য়ারেস্টের সংখ্য়া বেশি। হৃদরোগ এত দ্রুত ও এমনভাবে আসছে যে বাঁচানোর সময়টুকু পাওয়া যাচ্ছে না।

কীভাবে সাবধান থাকবেন

Heart Disease | The Nutrition Source | Harvard T.H. Chan School of Public  Health

কোনও কোমর্বিডিটি থাকলে, সেই দিকে বিশেষ নজর দিন।

খাওয়াদাওয়ায় নজর দিতে হবে। বাড়িতে তৈরি হাল্কা খাবার খেতে হবে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আপনার কী কী ধরনের ঝুঁকি হতে পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।

মদ্যপান কমাতে হবে। । মদ্যপান শরীরে রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে শরীর গরম করে দেয়। শীতকালে শরীরের ভিতর গরম এবং বাইরের ঠান্ডা আবহাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। শুষ্ক আবহাওয়ায় শরীর সবসময় হাইড্রেটেট রাখতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা টানা ঘুম দরকার।

You might also like