Latest News

হাসপাতাল কি মধুচক্রের জায়গা! কুণালের মন্তব্যের পরেই রণংদেহি শোভন বললেন, “মুখ পোড়া হনুমান”

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার নারদ মামলা নিয়ে তেমন কোনও হেলদোল হওয়ার কথা ছিল না। কারণ শুক্রবার একটি রায় দিয়ে রেখেছে হাইকোর্ট। বৃহত্তর বেঞ্চে পরবর্তী শুনানি হবে সোমবার। কোভিড, লকডাউন, ছুটিছাটার মধ্যে আর কীই বা খবর হতে পারে।

কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায় আর বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় যেন মিঠুন চক্রবর্তীর সেই সংলাপটা হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছেন, “খবর দেখি না, খবর পড়ি না, খবর তৈরি করি!” শনিবাসরীয় বিকেল থেকে বৈশাখীর বিস্ফোরণ, তার পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, কুণালের বক্তব্য শুনে উডবার্নের জানলা দিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলন—সব মিলিয়ে যা ঘটল তা দেখে বলা যেতে পারে গত সোমবার থেকে চলতে থাকা নারদের নতুন সিরিজে সবচেয়ে স্পাইসি বা মুখরোচক এপিসোড টেলিকাস্ট হল আজ, শনিবার।

শনিবারের প্রথম দৃশ্য। এসএসকেএমের উঠোনে এলেন বৈশাখী। মুখে মাস্ক আর পরনে খয়েরি রঙের চুড়িদার। সংবাদমাধ্যমের সামনে যেন কামান দাগছেন শোভন-বান্ধবী। এসএসকেএমের উঠোনে দাঁড়িয়ে এক নাগাড়ে বলে গেলেন, “সিবিআই হেফাজতের চেয়েও খারাপ অবস্থা হাসপাতালে। ওখানে যত না আমাদের হেনস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তার চেয়ে বেশি এখানে হেনস্থা হতে হচ্ছে।”

বৈশাখী আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে শোভনবাবুর কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না। তাঁর সুগার, প্রেসার পর্যন্ত মাপা হয়নি। তিনি যে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, তিন বেলা পেটে দানাটুকুও যে দেননি সেই খোঁজও কেউ রাখেনি।

বৈশাখীর এহেন কথা শুনে অনেকেই মনে করেছেন, আসলে বাহানা। জেল হেফাজতের কষ্ট এড়াতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শোভন। এ বার শর্ত সাপেক্ষে জামিন হয়েছে। তাই হাসপাতাল থেকে দ্রুত ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে চাইছেন।
বৈশাখী যদিও জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি সোমবার হাইকোর্টের শুনানিতে তোলা হবে। তাঁর কথায়, শোভনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া নিয়ে টালবাহানা চলছে। রোজ একই গেম চলছে। শোভন-বান্ধবীর এও অভিযোগ, প্রভাবশালীদের চাপ রয়েছে যাতে শোভনবাবুকে পর্ণশ্রীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কথায়, “যে বাড়ি উনি চার বছর আগে ছেড়েছেন সেখানে যাবেন কেন? শোভনবাবু কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবেন না।”

শোভন বান্ধবীর অভিযোগ, “যে কেউ শোভনবাবুর কেবিনে ঢুকে পড়ছেন, রাত বিরেতে দরজায় লাথি মারা হচ্ছে, পুলিশ দেখছে অথচ কিছু বলছে না। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বৈশাখীর আবেদন, আপনি দয়া করে দেখুন।”
এরপরেই দৃশ্যেই প্রবেশ কুণালের…..

তৃণমূল মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমে বলেন, “শোভনবাবু আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। সিবিআই, আদালত, প্রেসিডেন্সি জেল আর হাসপাতালের বিষয় এগুলি। এখানে তৃণমূল ত্রিসীমানায় নেই। রাজ্য সরকারেরও কোনও ভূমিকা নেই। শোভনবাবুকে বুঝতে হবে, উনি মামার বাড়ির বাগানে পায়চারি করছেন না।” সেইসঙ্গে কুণাল আরও বলেন, “হাসপাতাল সুপারের দেখা উচিত সিস্টেম। যখন তখন, রাতবিরেতে কেবিনে কেউ গিয়ে ঘুরে বেড়াবেন তা হয় না। হাসপাতালটা কি মধুচক্রের জায়গা নাকি!”

আগেও শোভনবাবু বলেছিলেন, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দুঃসময়ের বন্ধু। তাঁর অপমান তিনি মেনে নেবেন না! কুণালের ওই মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হওয়ার পর যেন নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি শোভন। উডবার্নের জানলা থেকে মুখ বাড়িয়ে নিশানা করেছেন কুণালকে। সে দৃশ্য নাটকীয়। সিনটা শুধু ভাবুন।

কী বলেছেন শোভনবাবু?

তাঁর কথায়, “এক জন টেন পাশ সাংবাদিক অপমানজনক কথা বলছেন। যিনি এক সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতার চেয়েছিলেন। উনি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নখের যোগ্য নন। নিজের মুখ পুড়িয়েছেন তিনি। মুখ পোড়া হনুমান!”
ঘুরিয়ে কুণালকে আপদ বলেও কটাক্ষ করেছেন শোভন। বলেছেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষা দিতে হয়েছিলে এক ইংরেজের কাছে। সেখানে প্রশ্ন এসেছিল আপদ আর বিপদের পার্থক্য কী? এই যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আসছে, সেই ঝড়ের মধ্যে সমুদ্রে যদি কোনও মৎস্যজীবীর নৌকো পড়ে সেটা হল বিপদ। আর ইংরেজের কাছে বঙ্কিমচন্দ্রকে বাংলা পরীক্ষা দিতে হয়েছিল, সেটা হল আপদ।”

তারপর কুণাল ফের ময়দানে নামেন। চন্দ্রবিন্দু একসময় গান লিখেছিল, “গ্ল্যাক্সো বেবি ফুলনদেবী, হ্যাঁচ্চো হ্যাঁচ্চো ভয় দেখাচ্ছ বাপরে!” শোভনকে বৈশাখীর গ্ল্যাক্সো বেবি এবং বৈশাখীকে ফুলটুসি বলে কটাক্ষ করেছেন কুণাল।
এসবের মধ্যেই শোভন রাত্রি আটটা নাগাদ এসএসকেএম থেকে পার্সোনাল রিস্ক বন্ডে সই করে বের হন। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। তারপর সেখানে আইনি কাজ মিটিয়ে গোলপার্কে বান্ধবী বৈশাখীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন প্রাক্তন মহানাগরিক। আপাতত বান্ধবীর গৃহেই বন্দী থাকবেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। নজর রাখবে সিসিটিভি ক্যামেরা।

You might also like