Latest News

ঝালমুড়ি বেচেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, রসিকবিলের ফেরিওয়ালা ছোট্ট রূপেশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বপ্ন, ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু চোদ্দো বছরের রূপেশের সন্ধে গড়িয়ে যায় চিড়িয়াখানায় ঝালমুড়ি বেচেই। মনে হতে পারে, অলীক স্বপ্ন। সে ছেলে পড়াশোনা করবে কখন? আবার একইসঙ্গে মনে পড়তে পারে, দক্ষিণ দিনাজপুরের উজ্জ্বল পোদ্দারের কথা। ঘুঁটে বেচে ঠোঙা বানিয়ে সংসার চালাতেন তাঁর মা, আর সেই পরিবারের ছেলেই এখন বিখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ডাক্তার উজ্জ্বল পোদ্দার।

তবু, সমবয়সী ছেলেমেয়েরা হইহই করে বক্সিরহাট রসিকবিল পর্যটন কেন্দ্রে ঢোকে যখন সেদিকে চেয়ে মনখারাপ হয়ে যায় রূপেশের। তার কি আর আনন্দ করার সময় আছে! ঝালমুড়ি বেচে টাকা তুলতে না পারলে দিন গুজরান হবে না যে! আর পড়াশোনাও যে বন্ধ হয়ে যাবে।

ভাঙাচোরা ঘরে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে অভাবের সংসার। চোদ্দ বছরের রূপেশ বর্মণের এখন একটাই চিন্তা, পড়াশোনা করতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি রসিকবিল চিড়িয়াখানায় ঝালমুড়ি বিক্রি করে সে।

ছেলের রোজগারেই চলে সংসার। অসহায় বাবা মা রূপেশের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু উপায় কী!

কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের রসিকবিল পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন দক্ষিণ চেংটিমারি জুনিয়ার হাই স্কুলের ক্লাস সেভেনের ছাত্র রূপেশ। বাবা স্থানীয় বিলে মাছ ধরার কাজ করলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানো দূরের ব্যাপার। তাই বাধ্য হয়েই সাইকেলে চেপে ঝালমুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রূপেশ।

বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগটুকুও নিতে পারেনি রূপেশের পরিবার। করোনা পরিস্থিতিতে ছেলের যখন অনলাইন ক্লাস চলে পাশের বাড়ির স্মার্টফোনই ভরসা। তবু রূপেশের বড় হওয়ার অধ্যাবসা দেখে চোখে জল আসে বাবা মায়ের। পারবে তো রূপেশ তার স্বপ্ন ছুঁতে?

রসিকবিলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে ঝালমুড়ি বিক্রি করে দিনে দু থেকে আড়াইশো টাকা আয় করে রূপেশ। সমবয়সীদের আনন্দ করতে দেখে সাময়িক মনখারাপ হলেও বাবা, মা বোনের কথা মনে পড়তেই কাজে মনে দেয় সে।

যদিও ঝালমুড়ি বিক্রির সময়টা ছাড়া বাকিসময় মন দিয়ে পড়াশোনা করে রূপেশ। বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দূরে থাক, সংসার সামলে স্কুলের গণ্ডিটুকু পেরোনোই যে এখন চ্যালেঞ্জ! কোনও সহৃদয় ব্যক্তি কি পাশে দাঁড়াবেন সেই পরিবারের? সরকারি সাহায্য মিলবে কি? নানান অনিশ্চয়তার জাঁতাকলে পিষে চলেছে সেই বর্মন পরিবার।

You might also like