Latest News

বিনা ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী থাকুন মমতা, তৃণমূল নেত্রীকে খাটো করতে ভাবনা রুদ্রনীলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবাসরীয় দুপুরে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় দক্ষিণা বাতাস খেলে গিয়েছে কালীঘাটে। ভোট হবে ভবানীপুরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি থাকছে না বলে কপালের ভাঁজ ঘুচে তৃণমূল (TMC) নেতাদের ঠোঁটেও চওড়া হাসি। ঠিক তখনই কৌতূহল, মমতার বিরুদ্ধে কে হবেন বিজেপি-র (BJP) প্রার্থী?

একুশের ভোটে ভবানীপুরে তৃণমূলের হয়ে লড়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী ছিলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। বর্ষীয়ান শোভনদেবের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন রুদ্র। নন্দীগ্রামে মমতা পরাজিত হওয়ায় শোভনদেব ভবানীপুর ছেড়ে দিয়েছেন। দিদি সেখান থেকে লড়বেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কে?
এ ব্যাপারে দ্য ওয়াল-এর তরফে রুদ্রনীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রার্থী তো পরের কথা, ভোট নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। এবং এমন ভাবনারও শরিক তিনি যে, মমতাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে দেওয়া।

কেন এমনটা বলছেন রুদ্র?

তাঁর কথায়, “আমি শুনলাম নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আমি খুব বিস্মিত। এতগুলো কেন্দ্র বাদ দিয়ে খাস কলকাতায় ভোট করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন যাতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন সেই কারণে এটা করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পার্টির বক্তব্য ছিল, যেখানে স্কুল কলেজ খোলেনি, ট্রেন পুরোপুরি চলছে না, তার মানে সরকারই বলছে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। তাহলে নির্বাচন কী ভাবে হচ্ছে?”

এখানে বলে রাখা ভাল, নির্বাচন কমিশনও স্পষ্ট করে বলেছে, বাংলায় যাতে কোনও সাংবিধানিক সংকট না তৈরি হয় সে কারণেই কমিশন আগেভাগে ভবানীপুরের ভোট করাচ্ছে। রুদ্রনীল সেটাকেই মমতার স্বার্থে ভোট হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।

প্রার্থী হওয়া না হওয়া নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেছেন অভিনেতা। রুদ্র বলেন, “দল আগে সিদ্ধান্ত নিক নির্বাচনটা লড়বে কি না। যদি নির্বাচন লড়বে মনে করে তাহলে দল সিদ্ধান্ত করুক কাকে প্রার্থী করবে। যদি আমাকে প্রার্থী করে তাহলে দলের সিদ্ধান্ত আমাকে মানতে হবে। কিন্তু আমার একটা ব্যক্তিগত অভিমত রয়েছে। আমি মনে করি এই নির্বাচনটা অর্থহীন। একজনের স্বার্থে নির্বাচন হচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ব্যাপারই থাকছে না। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তারমানে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার অর্থ তিনি বলার সুযোগ পাবেন যে ওমুককে হারিয়েছেন। প্রার্থী দিলে এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।?” রুদ্রনীল বলেন, সেটা তো বটেই।

কিন্তু দল যদি বলে রুদ্রনীল ঘোষই লড়বেন পদ্মফুল প্রতীকে? এ ব্যাপারেও রুদ্রর উত্তর স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, “দল আমাকে প্রার্থী করলে ভবানীপুরে দু’জন পরাজিত প্রার্থীর লড়াই হবে।” রুদ্র বোঝাতে চেয়েছেন, তিনিও যেমন ভবানীপুরে শোভনদেবের কাছে হেরেছিলেন তেমন মমতাও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হেরেছেন। ফলে তাঁরা দু’জনেই পরাজিত।

তবে রুদ্র ঘনিষ্ঠ মহলে এও বলেছেন, দলের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে ভোটে লড়া না লড়া নিয়ে। এখন কৌতূহল, বিজেপি কি আদৌ ভোট লড়বে? নাকি ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেবে মমতাকে? আর যদি লড়ে তাহলে কে হবেন প্রার্থী? রুদ্র বারে বারেই বলেন, আগে দেখি দল আদৌ নির্বাচনটা লড়বে কিনা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like