Latest News

Ramchandra Dome: গরিবের রাম ডাক্তার পলিটব্যুরোয়, এই প্রথম কোনও দলিত সিপিএমের সর্বোচ্চ স্তরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কান্নুর পার্টি কংগ্রেসের শেষ দিন বড় চমক দিল সিপিএম। প্রাথমিক আলোচনায় না থাকলেও বাংলা থেকে পলিটব্যুরোর নতুন সদস্য হলেন প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোম (Ramchandra Dome)।

নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী ডাক্তার রামচন্দ্র ডোম (Ramchandra Dome)। ডাক্তারি পড়ার সামর্থ ছিল না। এলাকার মানুষ ও কমিউনিস্ট পার্টির দরদীদের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক হন। অন্যদের এই পাশে থাকার কথা ভোলেননি তিনি। গরিব মানুষের কথা ভেবে মহম্মদবাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটা ছোট গুমটিতে বিনা পয়সায় রোগী দেখতেন। ধীরে ধীরে সকলের কাছে রাম ডাক্তার নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

রামচন্দ্র ডোম (Ramchandra Dome) সাত বারের সাংসদ ছিলেন। ১৯৮৯ সালে বীরভূম কেন্দ্র থেকে প্রথম সাংসদ হন। ২০০৯ পর্যন্ত বীরভূমের সাংসদ ছিলেন তিনি। ওইবার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে সিপিএম বহিষ্কার করায় তাঁর বোলপুরে প্রার্থী করে গরিবের ডাক্তার রামচন্দ্র ডোমকে। কেন্দ্র বদলালেও তাঁর জয় আটকায়নি। বিপুল ভোটে জিতে সপ্তমবারের জন্য সাংসদ হন। যদিও ২০১৪ এর নির্বাচনে হেরে যান।

সিপিএমের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দলিত পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হলেন। বীরভূমের মহম্মদবাজারের প্রত্যন্ত চিল্লা গ্রামে জন্ম রামচন্দ্র ডোমের (Ramchandra Dome)।

গরিব পরিবারের সন্তান রামচন্দ্র ডোম ছোট থেকে চরম অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন। বাবা কাঠ কেটে গরুর গাড়ির চাকা বানাতেন। মা জঙ্গল থেকে পাতা লকড়ির বোঝা মাথায় করে বয়ে নিয়ে আসতেন। তাঁর বাড়ি কেউ গেলে মাটির উনুনে চা করে খাওয়াতেন, এটাই ছিল চেনা ছবি। সাংসদ হলেও পরিবারের দারিদ্র ছিল পরিচিত ছবি। সকলের আড়ালে গিয়ে দেখতেন বাড়িতে চাল মজুত আছে কি না। রামচন্দ্র ডোমেরা তিন ভাই। তাঁরা আজ‌ও কাঠের কাজ করে সংসার চালান।

দলের কাজ না থাকলে সাংসদ হওয়ার পরও মহম্মদ বাজারের বাসস্ট্যান্ডের কাছে গুমটি ঘরে বসে রোগী দেখতেন রাম ডাক্তার। ফি তো নিতেন‌ই না। উল্টে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের দেওয়া সব ওষুধের স্যাম্পেল রোগীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। এই দেখে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা বলতেন, এই ডাক্তার আমাদের ভাতে মারবে। সব স্যাম্পল নিয়ে বিলিয়ে দেয়, ওষুধ কেনায় কই! জটিল রোগ হলে হাসপাতালে পাঠায়।

সেই রামচন্দ্র ডোম (Ramchandra Dome) ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। নলহাটিতে শাসকদলের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর মাথা ফাটে। রক্তাক্ত হন কর্মীরা। সেই অবস্থাতেই বিডিও অফিসে গিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এরপরই কর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন। অনেকের মতে, লড়াই তাঁর মজ্জাগত। কখনও অভাবের সঙ্গে, কখনও রাজনীতির ময়দানে।

বীরভূমের সন্তান প্রণব মুখোপাধ্যায় এর আগে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছে। বোলপুরের সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় লোকসভার অধ্যক্ষ হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। সেই জেলার‌ই রামচন্দ্র ডোম এবার দেশের সর্ববৃহৎ কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণের জায়গা পলিটব্যুরোয় জায়গা পেলেন।

তবে আরএকটি আকর্ষণীয় ব্যাপার হল সিপিএমের পলিটব্যুরোয় বাংলা থেকে দু’জন ডাক্তারবাবু জায়গা পেলেন। সূর্যকান্ত মিশ্র আগেই ছিলেন, এবারে এলেন রামচন্দ্র ডোম। প্রশ্ন, এই দুই ডাক্তার বাংলায় দলের রোগ সারাতে পারবেন তো?

এ রামের ভাগ হবে না, হিন্দুত্বের খোলা হাটে আর্ট ফিল্ম ও ফিচার ফিল্ম

You might also like