Latest News

পে কমিশন কি ভেন্টিলেশনে, নিরুত্তর চেয়ারম্যান সরকার  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ষষ্ঠ পে কমিশন নিয়ে আমি কোনও কথা বলতে পারব না,’ বললেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো স্থির করার দায়িত্ব প্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অভিরূপ সরকার।

মঙ্গলবার জামাই ষষ্ঠীর দিন দুপুরে নবান্নে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে পাশে নিয়ে ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যে টুকু ডিএ বাকি ছিল টোটালটাই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মোট কথা রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ১ জানুয়ারি, ২০১৯ থেকে ১২৫ শতাংশ ডিএ পাবেন”।

আরও পড়ুন: ‘সারা দেশ তাকিয়ে রয়েছে তৃণমূলের দিকে’

অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ৬ মাস আগেই সেকথা ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশই এই মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো নিয়ে খুশি নয়। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট হওয়ার কথা ছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর। তার জন্য ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করে ষষ্ঠ পে কমিশন গঠন করে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয় অভিরূপ সরকারকে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রথমে শোনা গিয়েছিল ৬ মাসের মধ্যেই নতুন বেতন স্থির করবে কমিশন। তার পর প্রায় তিনবছর হতে চলল, এখনও কিছুই জানাতে পারেনি কমিশন। বলা হয়েছিল, এই বছরের নভেম্বর মাসেই জানানো হবে ২০১৬ সালের বেতন কাঠামো।

তার আগে গতকালই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন যে পরের বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে ১২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।

তাহলে কি এই নভেম্বর মাসেও ঠিক হবে না ২০১৬ সালের সেই বেতন কাঠামো? আবারও বাড়বে পে কমিশনের মেয়াদ?

দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় এমনিতেই অসন্তোষ রয়েছে সরকারি কর্মচারিদের। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে, ষষ্ঠ পে কমিশনের ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে তাঁদের মনে। তাহলে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে যে নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার কথা ছিল তা ২০১৯ এর পয়লা জানুয়ারিতেও স্থির হবে না?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কো অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সিনহার কথায়,  বোঝাই যাচ্ছে পে কমিশনকে ঠাণ্ডা ঘরে পাঠিয়ে দিল সরকার। তাঁর কথায়, “ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। তার পরেও একাধিক বার তা বাড়িয়ে ২৬ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মতি গতি এখন ভালো ঠেকছে না। পে কমিশনের কথা মুখেও আনছেন না অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।”

বিজয়বাবুর বক্তব্য, যে ডিএ জানুয়ারি মাসে দেওয়া হবে তা ৬ মাস আগে ঘোষণা করে গাজর ঝোলানো হল সরকারি কর্মচারীদের সামনে। কিন্তু কর্মচারীরা এতো বোকা নয়। পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে কো অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যরা বুধবার দুপুরের পর থেকেই বিক্ষোভ দেখাবেন অফিসে অফিসে। সরকার কোনও সদুত্তর না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন কর্মচারীরা।

ষষ্ঠ পে কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করে দ্য ওয়াল। কিন্তু পুরো প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই শুধু ষষ্ঠ পে কমিশন শব্দটা শুনেই, তিনি বলে দিলেন, এ নিয়ে তিনি কোনও কথাই বলতে পারবেন না।

যাঁর কাছে ছিল উত্তর, সেই সরকারই রইলেন নিরুত্তর।

You might also like