Latest News

ময়নাগুড়িতে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে কোপালেন প্রৌঢ়! পরে উদ্ধার তাঁরই দেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরাবরই সন্দেহ করতেন অন্য পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক আছে। তা নিয়ে হামেশাই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা হতো। এইভাবেই দীর্ঘ সময় পার করে আসেন। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন। তবে রবিবার রাতের অশান্তি চূড়ান্ত পর্যায় গিয়ে পৌঁছয়। তার ফলে যা হল তা শুনে শিউরে উঠেছেন সকলে।

ময়নাগুড়ির পানবাড়িতে বাড়ি মহেন্দ্র রায়ের। রোজের মতো রবিবার রাতেও আকন্ঠ মদ্যপান করে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। তারপরই স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের বাকি সদস্যদের অভিযোগ ঝগড়ার সময় ধারালো ছুরি নিয়ে স্ত্রী মিনুবালা রায়কে কোপাতে শুরু করেন। মায়ের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন তাঁদের ছেলে রবি রায়।

ছেলে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও এলোপাথাড়ি কোপায় মহেন্দ্র। পরিবারের বাকি সদস্য ও প্রতিবেশীরা এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা-ছেলেকে ধুপগুড়ি প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রথমে জলপাইগুড়ি জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং পরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে দু’জনকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরই ঘরে দরজা বন্ধ করে দেন মহেন্দ্র। সোমবার অনেক বেলা হয়ে গেলেও তিনি ওঠেননি দেখে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা অবাক হয়ে যায়। তাঁরা দরজা খুলে দেখেন ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধ। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ওই বৃদ্ধকে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন মহেন্দ্র। পুলিশ তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গিয়েছে। এদিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভর্তি মা ও ছেলের শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

মহেন্দ্র-মিনুবালার মেয়ে কবিতা রায় বলেন, “বাড়িতে ঝামেলা প্রায়ই লেগে থাকত মা-বাবার। গতকাল এরকমই ঝামেলার সময়ে বাবা ছুরি দিয়ে মারে মাকে, ভাইকে। বাবা প্রতিদিনই মদ খেত। মা আর ভাইয়ের অবস্থা ভাল নয়।”

এক রাতের মধ্যেই পানবাড়ির রায় পরিবারের গোটা ছবিটা বদলে গিয়েছে। কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউ!

You might also like