Latest News

কাশ্মীরে এনএসজি কম্যান্ডো, শুরু হচ্ছে কি জঙ্গিবিরোধী বিরাট অভিযান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু কাশ্মীরের বিএসএফ ক্যাম্পে এইবার দেখা গেল এলিট এনএসজি কম্যান্ডোদের। অন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মহড়া দিচ্ছেন তারা।

নয়ের দশকের পর কাশ্মীরে কখনই ব্যবহার করা হয়নি এনএসজিকে। এতদিন দেশের প্রথম সারির এই এনএসজি কম্যান্ডোদের ব্যবহার করা হত শুধু হাইজ্যাকিং বা সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় মনে করছে, দেওয়াল ভেদ করে যাওয়া র‍্যাডার, স্নাইপার রাইফেল এবং কর্নাট অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এনএসজি বিশেষ ভাবে কার্যকারী হতে পারে কাশ্মীরের জঙ্গি বিরোধী অপারেশনে। সাউথ ব্লকের সামরিক বিশেষজ্ঞদের মত, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত এই এনএসজির ব্যবহার হলে কমতে পারে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের জীবনহানির ঝুঁকি।

পিডিপি-বিজেপির জোট সরকার ভেঙে দেওয়ার পরই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল দেওয়াল লিখন। এইবার কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে পুরোশক্তি নিয়ে নামবে নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গত তিনবছরে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে বারবার পাকিস্তানের গোলাগুলিতে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের নিরাপত্তা। বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীর জুড়ে আছড়ে পড়েছে বিছিন্নতাবাদী আন্দোলন। একের পর এক জঙ্গি হানায় মারা গিয়েছে মানুষ। শুধু এই বছরের মে মাস অবধি শহিদ হয়েছেন, প্রায় ৩০ জন নিরাপত্তা কর্মী ও ৩৫ জন সাধারণ মানুষ। গত বছরে মারা গিয়েছিলেন ৮০ জন জওয়ান ও ৭০ জন মানুষ।

অথচ ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর এই বিষয়ে তেমন কোনও পদক্ষেপ করেনি মোদী সরকার। নেওয়া হয়নি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে আলাদা কোনও বড় পদক্ষেপও।

তাহলে হঠাৎ এখন কেন এই রণসজ্জা?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল। তাঁরা  মনে করেন, পিডিপি’র সঙ্গে হাঁসজারু জোট ভেঙে দিয়ে গত তিনবছরে কাশ্মীরের অবস্থার অবনতির দায় নিজেদের হাত থেকে ঝেড়ে ফেলতে চায় বিজেপি।

তিনবছর আগে, সদ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার ঝড়ে যে কাশ্মীরও কাবু সে কথা বোঝাতেই সম্পূর্ণ ভিন্ন মতের পিডিপি-র সঙ্গে তড়িঘড়ি জোট তৈরি করে বিজেপি। কিন্তু পরের তিন বছরে বুরহান ওয়ানির প্রসঙ্গই হোক বা একদম হালের সাংবাদিক সুজাত বুখারির হত্যা, ক্রমশ খারাপ হয়েছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি।

সামনের বছরেই লোকসভার ভোট। মোদীর জনপ্রিয়তাতেও ভাটা পড়েছে আগের থেকে। এরই মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে বিরোধীরা। উত্তরপ্রদেশে উপনির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধীদের সামনে পর্যদুস্ত হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর দল। কর্নাটকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও সরকার গড়তে পারেনি তারা।

ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেরই অনুমান, এইবার ভোটে জিততে পুরনো মেরুকরণের রাজনীতিতে ফিরতে পারে বিজেপি। সীমান্ত সংঘর্ষ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে কাশ্মীরে বড় মাপের সেনা অভিযান চালিয়ে দেশজুড়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী হাওয়া তুলতে চায় তারা।

You might also like