Latest News

বঙ্গের অঙ্ক মেনে স্বরাষ্ট্রের প্রতিমন্ত্রী, বাংলায় অমিতের চোখ-কান করা হল নিশীথকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার মোদী মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের পর উঠে আসছে একের পর এক অঙ্ক। গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর আজ ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই রদবদলের দিকে। একগুচ্ছ নতুন মন্ত্রী পেয়েছে ক্যাবিনেট। বাদ পড়েছেন আরও একগুচ্ছ।

বাংলা থেকে এবার মোট ৪ জনকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী করেছেন নরেন্দ্র মোদী। বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা এবং কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। বঙ্গ বিজেপির এই চার রত্নের মধ্যে গুরুত্বের দিক থেকে নিশীথ প্রামাণিকের পাল্লা কিন্তু ভারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সরাসরি অমিত শাহের ডেপুটি হয়ে বসেছেন তিনি। এছাড়া যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন কোচবিহারের সাংসদ।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে যে পশ্চিমবঙ্গের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। একুশের ভোটে বাংলা দখলের লড়াইয়ে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা এসেও প্রচার করে গিয়েছেন। কিন্তু বাংলায় প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে আরও দৃঢ় করার দিকে নজর থাকবে বিজেপি সরকারের। আর নিশীথ প্রামাণিকের মাধ্যমেই সরাসরি অমিত শাহ এবার বাংলার উপর নজরদারি জোরদার করতে পারবেন বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। এতে সরকারের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করাও সহজ হবে।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও প্রাক্তন তৃণমূল নেতা নিশীথ প্রামাণিকের হৃদ্যতা কম নেই। সবমিলিয়ে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে টক্কর দিতে নরেন্দ্র মোদীর তুরুপের তাস হয়ে উঠতেই পারেন নিশীথ প্রামাণিক।

এছাড়া বনগাঁর শান্তনু ঠাকুরকে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের বন্দর ও জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। সুভাষ সরকার হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। মোদী সরকারের ক্যাবিনেটে আলিপুরদুয়ারের জন বার্লার উত্থান আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। কারণ দিন কয়েক আগেই তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে নানা মহলে সমালোচিত হয়েছেন। উত্তরবঙ্গকে আলাদা করে বাংলা ভাগের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। সেই জন বার্লা মোদী মন্ত্রিসভায় পেয়েছেন সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ। তিনি নিজেও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

অনেকে বলেন, প্রতিমন্ত্রীদের বিশেষ কাজ বা গুরুত্ব কোনওটাই থাকে না। এসব আসলে নাম কা ওয়াস্তে। আবার অনেকে এও বলেন, প্রতিমন্ত্রী হলেও ছাপ ফেলা যায়। যদি তিনি নিজেকে সেই উচ্চতায় তুলে ধরতে পারেন। শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে কীভাবে ব্যবহার করেন তার উপরেও অনেকটা নির্ভর করে প্রতিমন্ত্রীদের দাপট।

এ ব্যাপারে উদাহরণ, বাম জমানার গোড়ার দিকে অসমের বাঙালি নেতা সন্তোষ মোহন দেব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সেসময় সিপিএমের সঙ্গে টক্কর দিতে প্রায়ই তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসতেন। প্রায়ই গোলমালও বাঁধত। একবার তো যাদবপুরে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে আটকেও রাখা হয়েছিল। তাই প্রতিমন্ত্রীরা যে একেবারে ফেলনা নন, তার দৃষ্টান্ত রয়েছে অতীতে। এখন দেখার বাংলার চার প্রতিমন্ত্রী কীভাবে কাজ করেন, সত্যি সত্যিই নিশীথ প্রামাণিক বিজেপির তুরুপের তাস হয়ে ওঠেন কিনা।

You might also like