Latest News

বিমানের পর বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান কে, জল্পনা সিপিএমে, কী বলছে শরিকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স বিধিতে এবার সিপিএমের সমস্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি নিতে হবে বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসুকে। খুব বেশি হলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্মানীয় আমন্ত্রিত হিসেবে ‘মার্গ দর্শক’ হতে পারেন দীর্ঘদিনের পলিটব্যুরোর এই সদস্য। বিমানবাবু নিজেও জানিয়েছেন, তিনি আর কোনও কমিটিতে থাকবেন না। তবে পার্টি যা দায়িত্ব দেবে তা তিনি পালন করবেন।

সিপিএমের রাজ্য সম্মেলন ও পার্টি কংগ্রেসের আগে বিমানের কমিটি ছাড়ার বিষয়টি যখন একপ্রকার চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে তখন বাম শিবিরে জল্পনা, কে হবেন পরবর্তী বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান?

সিপিএম কী বলছে?
এসব ব্যাপারে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট প্রকাশ্যে কোনওকালেই কোনও মন্তব্য করে না। তবে সিপিএমের অন্দরে কান পাতলে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে সূর্যকান্ত মিশ্রকে বিমান বসুর স্থলাভিষিক্ত করার কথা ভাবছে দল। সিপিএমের এক রাজ্য কমিটির সদস্যের কথায়, সূর্যবাবু এবার রাজ্য সম্পাদকের পদ ছাড়লেও তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোতে থাকবেন। তাই সিনিয়র নেতা হিসেবে তিনিই হবেন ফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

রবীন দেবও এবার বয়সের কারণে রাজ্য কমিটি ছাড়বেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রেখে দেওয়া হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিপিএমের অনেকের মতে, পার্টির একটি অংশ চাইছে রবীন দেবকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হোক। যদিও তাঁদের বক্তব্য, যাঁদের এই বাসনা রয়েছে তাঁদের সংখ্যা একেবারেই কম। সেদিক থেকে সূর্য মিশ্রর পাল্লা ভারী।


সিপিএমের একটি অংশ এও বলছে, এরকমও হতে পারে, শরিকদলগুলির চাপে বিমান বসুকে হয়তো শুধুমাত্র বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রেখে দেওয়া হতে পারে। তবে তাতে বিমান বসু নিজে কতটা রাজি হবেন তাও সংশয়ের।

শরিক দলগুলি কী চাইছে?
এ ব্যাপারে ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিমানদা শ্রদ্ধেয় নেতা। আমরা চাইব উনিই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান থাকুন। কিন্তু সিপিএমের নিয়মে যদি ওঁকে কমিটি থেকে বাদ পড়তে হয় তাহলে সিপিএম বিমানদাকে দায়িত্ব দেবে কি না সেটা তাদের দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু আমাদের আবেদন থাকবে, বিমানদাই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান থাকুন।’

সিপিআই রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান হয় সিপিএম থেকে। তারাই এটা ঠিক করবেন। আমাদের মতামত বামফ্রন্টের বৈঠকে বলব।’

আরএসপি নেতা মনোজ ভট্টাচার্যেরও বক্তব্য একই। তাঁর কথায়, ‘বড় শরিক হিসেবে সিপিএম-ই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান ঠিক করে। তবে বিমানদাকে ওরা যদি দায়িত্ব না দেন সেক্ষেত্রে বিকল্প কার নাম ওরা বলে সেটা দেখতে হবে। তাতে আমাদের মত, অমত সবটাই ফ্রটের মিটিংয়ে বলব। এগুলো আগে থেকে বলা যায় না।’

শৈলেন দাশগুপ্তর পর প্রায় আড়াই দশক বিমান বসু বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকে বলেন, সরকারে থাকার সময়েও শরিকদের সঙ্গে সিপিএমের সংঘাত বেঁধেছে বারবার। বারবার তা রুখেছেন বিমান। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম পর্বে যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের প্রকাশ্য সমালোচনা করতেন তৎকালীন ফরওয়ার্ড ব্লক সম্পাদক প্রয়াত অশোক ঘোষ, মন্ত্রিসভায় থেকে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে বিদ্ধ করতেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীরা, ২০০৮-০৯ সালে যখন রটেই গিয়েছিল বামফ্রন্ট ভেঙে যাচ্ছে সেই সময়েও বিমান সবটা ম্যানেজ করে নিয়েছিলেন নিজের মতো করে।

সরকার চলে যাওয়ার পরে এক দশক দশকের বেশি সময় ধরে সিপিএম-সহ বিভিন্ন শরিকরা সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হলেও ফ্রন্ট ছেড়ে কেউ বেরিয়ে যায়নি। কয়েক মাস আগে ফরওয়ার্ড ব্লকের ক্ষোভের আগুনেও জল দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান বিমান বসুই।

শরিকদের কাছে বিমানের গ্রহণযোগ্যতা
ফ্রন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে হিসেবে সমস্ত শরিকদলই বিমানবাবুকে মানে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। এমনকি ২০০৬ সালে অনিল বিশ্বাস প্রয়াত হওয়ার পর যখন বিমান বসুকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব দিল তখনও একবার কথা উঠেছিল, ফ্রন্টের চেয়ারম্যান অন্য কাউকে করা হতে পারে। প্রয়াত মহম্মদ আমিনের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু শরিকরা মানতে চায়নি।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like