Latest News

‘এমন ভক্তদের দেখলে রামও লজ্জা পেতেন’, ফের তোপ সায়নীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার’ অনুষ্ঠানে গতকাল ধর্মতলার অস্থায়ী মঞ্চে, রাজনৈতিক রঙ ভুলে, এক সুরে সুর মিলিয়েছেন টলিউডের অধিকাংশ তারকা। বারংবার তাঁদের শিল্পীসত্ত্বায় আঘাত হানায়, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ায়, খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রাণহানির হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সোচ্চার হয়েছিলেন তারকা থেকে বহু সাধারণ মানুষ। সেই অনুষ্ঠানেই গলা ছেড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জোড়ালো প্রতিবাদ করলেন সায়নী ঘোষ।

বক্তব্যের শুরুতেই ওই প্রতিবাদ সভায় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, সেই সব সহযোদ্ধাদের কুর্নিশ জানিয়ে নিজের বক্তব্য শুরু করেন সায়নী। তারপরেই তিনি বলেন, “সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান। নতুবা এর পরে আর কোনও কথাই আপনারা বলতে পারবেন না। অচিরেই কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে না বাংলার মানুষের।” সায়নী এও বলেন, “আরে সায়নী ঘোষ তো কোন ছাড়! এরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও অপমান করতে ছাড়ে না!”

দেশনায়ক নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে ভিক্টোরিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েও অপমান করা হয়েছে বলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বহু মানুষ। একইসঙ্গে এমন এক অনুষ্ঠানে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তোলায় রীতিমতো ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে রাজ্যজুড়ে। তাছাড়াও বিগত কয়েকদিন ধরে সায়নী, দেবলীনা, পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

‘রামভক্ত’দের বিরুদ্ধে সায়নী নানা মন্তব্য করায়, তাঁকে ধর্ষণের, অ্যাসিড আক্রমণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। সেই নিয়েই সায়নী বলেন, “ছোটবেলা থেকে রামায়ণ শুনে বড় হয়েছি। রামকে ব্যবহার করেই মানুষদের নিয়ে মশকরা করছেন একদল মানুষ। এমন ভক্তদের দেখলে শ্রীরামও লজ্জা পেতেন।”

এর পরেই সায়নীর বলেন, “বাংলার মানুষদের নিয়ে এত মাথাব্যথা যখন, তখন মূল সমস্যা দূর করার চেষ্টা করুন। এখানে গরিবের জন্য দু’বেলা পেটভর্তি ভাত চাই। বেকার ছেলে মেয়েদের চাকরি চাই। স্থায়ী কর্মসংস্থান চাই।” আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেই সায়নী জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা বলেই, নারী সুরক্ষা এবং নারী নিরাপত্তায় এই রাজ্য দেশে একনম্বর স্থানে রয়েছে।

বক্তব্যের শেষে নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের কথা শেষ করার আগে আরও একবার রামের প্রসঙ্গ টেনে সায়নী বললেন, “আমাদের শেখাবেন না কীভাবে রামের পুজো করতে হবে। ছোট থেকেই তাঁর প্রতি আস্থা ছিল। বিশ্বাস ছিল। এখনও আছে।” “জয় বাংলা, জয় হিন্দ” বলেই মঞ্চ থেকে নামেন সায়নী।

You might also like