Latest News

ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে সংসদে তৃণমূলের সঙ্গেই কক্ষত্যাগ কংগ্রেস, বাম-সহ বিরোধীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে সংসদে কক্ষত্যাগ করল বিরোধীরা। শুক্রবার বিকেলে লোকসভায় ধনকড়ের অপসারণ প্রশ্নে কার্যত অভূতপূর্ব বিরোধী ঐক্য গড়ে‌ ওঠে।

বাংলার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবির অপসারণ চেয়েও সংসদ উত্তপ্ত হয়। দুই রাজ্যপালের অপসারণ চেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে লোকসভার অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করলে তাদের সঙ্গ দেয় সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি সহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট দলের সাংসদেরা।

তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির বিরুদ্ধে সেই রাজ্যের শাসক দল ডিএমকের অভিযোগ, তিনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে পদে পদে অসহযোগিতা করছেন। রবির বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অভিযোগ নিট সংক্রান্ত ডিএমকে সরকারের বিলে তিনি সম্মতি দিচ্ছেন না। ওই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুতে বেশ কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এরপরেই রাজ্য সরকার আইন করে পৃথক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সংক্রান্ত বিল রবি রাজভবনে আটকে রাখায় ডিএমকে সাংসদরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

বাংলার রাজ্যপাল ধনকড়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একই অভিযোগ। তিনি একাধিক বিল আটকে রেখেছেন, তাই শুধু নয় রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, তথ্য কমিশনার, লোকায়ুক্ত ইত্যাদি একাধিক পদে সরকারের নির্বাচিতদের নামের তালিকায় সম্মতি দিচ্ছেন না।

এছাড়াও ধনকড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি রাজ্যে সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে চাইছেন। ডিএম, এসপি এবং বিভাগীয় সচিবদের ফোন করে নানা ধরনের নির্দেশ দিচ্ছেন, দিচ্ছেন হুঁশিয়ারিও।
দিন কয়েক আগে এনিয়ে প্রকাশ্যে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যপালকে টুইটারে ব্লক করে দেওয়ার পাশাপাশি দলকে নির্দেশ দেন সংসদে রাজ্যপালের অপসারণ চেয়ে সরব হতে।

শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ফের জানিয়েছেন, বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনে তাঁর ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে প্রস্তাব আনবেন।

তবে তৃণমূল নেতৃত্ব চাইছে ধনকড়ের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব জাতীয় স্তরে সরব হতে।

সেইমতো বাজেট অধিবেশনের সূচনায় তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে ধনকড়ের অপসারণের আর্জি পেশ করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি কোন প্রতিক্রিয়া দেননি। দুদিন পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় একই আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী হাল্কা চালে সৌগতবাবুকে বলেন, দাদা আপনি বরং সাংসদ পদ থেকে অবসর নিয়ে রাজ্যপাল হয়ে যান।

তবে তৃণমূল বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না। তারা ক্রমশ আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।

সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের ভূমিকা কী হবে, যৌথভাবে দল মোদী সরকারের সমালোচনায় সরব হবে কিনা, এসব প্রশ্ন তৃণমূল এবার এখনও স্পষ্ট করেনি। কিন্তু রাজ্যপালের বিষয়টিকে তারা এর বাইরে রেখেছে। ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে রাজ্যসভায় সুধাংশুশেখর রায় এবং লোকসভায় সৌগত রায়‌ সরব হবেন বলে কংগ্রেস নেতৃত্বকে ঘরোয়া আলোচনায় আগেই জানিয়ে রেখেছিল তৃণমূলের সংসদীয় দল। সেই আলোচনায় বহরমপুরের সংসদ তথা লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী বাংলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি রাজ্যের রাজ্যপালের আচরণ নিয়ে সরব হয়ে অপসারণের দাবি তোলার প্রস্তাব দেন। শুক্রবার দেখা গেল সেই বোঝাপড়ার প্রতিফলন। তৃণমূল ও ডিএমকে সাংসদরা কক্ষত্যাগ করার সময় তাদের সঙ্গ দেন অন্য বিরোধী দলগুলি, যাদের অন্যতম ছিল কংগ্রেস এবং বামেরা। এছাড়া কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি সাংসদেরাও।

You might also like