Latest News

বাংলায় ১২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবের কী হল, বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে মমতাকে প্রশ্ন রাজ্যপালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যে বহু সমারোহে বাণিজ্য সম্মেলন করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। যার পোশাকি নাম বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট, সরকারের অলিন্দে যা বিজিবিএস নামে পরিচিত। এতদিন ধরে নবান্নের দাবি ছিল, গত পাঁচটি সম্মেলনে রাজ্যে মোট ১২ লক্ষ ৩২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এবার সেই বিনিয়োগের হিসাব চাইল রাজভবন। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের স্পষ্ট বক্তব্য, বিপুল অর্থ খরচ করে ২০১৫ সাল থেকে যে বাণিজ্য সম্মেলন হয়েছে রাজ্যে, তাতে বাস্তবে কতটা প্রাপ্তি ঘটেছে বাংলার, নবান্ন যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়।

গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদী যে ‘ভাইব্রান্ট গুজরাত’ নামে বাণিজ্য সম্মেলন শুরু করেছিলেন, অনেকটা তারই ধাঁচে বহু রাজ্য শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের ডেকে সম্মেলন শুরু করেছে। বাংলাও ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যে বাণিজ্য সম্মেলনে যে আড়ম্বর ও আয়োজন গত কয়েক বছরে হয়েছে তাও চোখ ধাঁধানো। আর প্রতিবারই বাণিজ্য সম্মেলনের শেষে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ঘোষণা করেছেন, বিনিয়োগ প্রস্তাবের বহর কতখানি।
সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে এবার নবান্নের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু জবাব পাননি।

মঙ্গলবার তিনি এ বিষয়ে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যপাল চিঠিতে লিখেছেন, ‘আপনি সম্প্রতি বলেছেন আমাদের সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে, আর্থিক অনুমোদন নিয়ে কাজ করা হয় এবং নিয়মিত অডিট হয়।’ রাজ্যপালের বক্তব্য, সরকারের কাজের ধারা যদি এতটাই স্বচ্ছ হয় তা হলে বাণিজ্য সম্মেলন নিয়েও নিশ্চয়ই বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এই বলে ২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্য সম্মেলনে বিনিয়োগ প্রস্তাবের (সরকার ঘোষিত) তালিকা চিঠিতে তুলে ধরেছেন রাজ্যপাল। তাতে দেখা যাচ্ছে, সরকার প্রতি বার সম্মেলনের পরই দাবি করেছিল, ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

এ ছাড়া রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের বক্তৃতার একটি অংশও চিঠিতে উদ্ধৃত করেছেন ধনকড়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় দেওয়া বক্তৃতায় তৎকালীন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি বলেছিলেন, “বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের পঞ্চম সংস্করণ অতিশয় সফল হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। তার মধ্যে ৫০ শতাংশের বাস্তবায়ন চলছে।”মমতার উদ্দেশে রাজ্যপাল লিখেছেন, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে দেড় বছর অতিক্রান্ত। শুধু বিবৃতি আর বিজ্ঞাপন দিয়ে আজকের দুনিয়া চলে না। কাজে কী হয়েছে স্বচ্ছতার স্বার্থেই জানান। গত ৬ অগস্ট এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে চিঠি লিখেছিলেন রাজ্যপাল। যে বিষয়গুলি নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা চাইছেন, এদিনও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল।

সেগুলি হল-

• ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের জন্য কত টাকা খরচ করা হয়েছে।

• দুই- যে এজেন্সিগুলির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে তাদের নাম কী।

• তিন-যে ইভেন্ট কোম্পানিগুলি বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করেছিল তাদেরই বা কী নাম।

• চার-২০১৬ সালের বাণিজ্য সম্মেলন থেকে শুরু করে মোট কতগুলি মৌ সই হয়েছে এবং কত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

• এবং পাঁচ- বাস্তবে কত বিনিয়োগ হয়েছে আর কত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজ্যপালের এই কৈফিয়তের জবাব নবান্ন দেবে কিনা সেটা বড় প্রশ্ন বইকি। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির যা কাজ ছিল, সেই দায়িত্ব কার্যত রাজ্যপালই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অনেক ব্যাপারে তাঁর কাজে ও ভূমিকায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু যে প্রশ্নগুলি তিনি তুলেছেন তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

You might also like