Latest News

পটাশপুরের বিজেপি কর্মীর মৃত্যু মামলায় স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বিজেপি কর্মী মদনকুমার ঘোড়ুইয়ের মৃত্যু মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ।

শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি রাজ শেখর মন্থা শুনানিতে বলেন, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে হবে বিজেপি কর্মী মদনকুমার ঘোড়ুইয়ের। তবে এসএসকেএম হাসপাতালে নয়, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে হবে এই ময়নাতদন্ত। বিভাগীয় প্রধানকে এই ময়নাতদন্তের দায়িত্ব নিতে হবে। বিচারপতি আরও জানিয়েছেন, এই ময়নাতদন্তের পুরো ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করে রাখতে হবে। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে ভিডিওগ্রাফির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তার পরেই সিঙ্গেল বেঞ্চের এই রায়ে আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার ফের এই মামলার শুনানি হবে। ততক্ষণ সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ে স্থগিতাদেশ থাকবে।

শুক্রবার ওই বিজেপি কর্মীর দেহ নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। সেই দেহকে নিয়ে মিছিল শুরু করে বিজেপি। নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে সেই মিছিল আটকায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বিজেপি কর্মীদের। রাস্তায় বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অনেকক্ষণ অবস্থানের পর তা ওঠে।

এই ঘটনায় বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বিজেপি করার অপরাধে লকআপের মধ্যেই পিটিয়ে মারা হয়েছে মদনকুমার ঘোড়ুইকে। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়া উচিত। রাজ্যের পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে।” অন্যদিকে পটাশপুর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তাপস মাঝি জানিয়েছেন, “নিখোঁজ হয়ে যাওয়া যুবক, যুবতী ও যুবকের কাকা সবাই বিজেপি সমর্থক। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। ওই কর্মী পুলিশ হেফাজতে নন, জেল হেফাজতে মারা গিয়েছেন। পুলিশের উপর আমাদের ভরসা আছে। তদন্ত হলে সব সত্যি সামনে আসবে।”

কয়েক মাস আগে পটাশপুর থানার কণকপুর গ্রামের বাসিন্দা কিশোর ঘোড়ুই এক যুবতীকে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে খবর। বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর যুবতীর বাড়ির তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয় পটাশপুর থানায়। কিন্তু অনেক দিন খোঁজার পরেও তাদের কারও খোঁজ মেলেনি। এদিকে ওই যুবকের মা আত্মগোপন করেন। তাই গত ২৬ সেপ্টেম্বর ওই যুবকের কাকা মদনকুমার ঘোড়ুইকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

এই ঘটনার পরে ওই ব্যক্তিকে আদালতে তোলা হলে তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। জেলে থাকাকালীনই অসুস্থ হয়ে পড়েন মদন। তাঁকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কলকাতায় পাঠানো হয় তাঁকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে মৃত্যু হয় মদনের। বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর খবর পেয়েই বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তারপরে সেই বিক্ষোভে যোগ দেয় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও।

এখন দেখার এদিন হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের পরেও তাতে ডিভিশন বেঞ্চের স্থগিতাদেশের পরে ঘটনার গতিপ্রকৃতি কোনদিকে যায়।

You might also like