Latest News

সেঞ্চুরির পথে পেঁয়াজ, বাড়ছে আলুর দামও, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ টাস্ক ফোর্স

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্লগ ওভারে ঝোড়ো ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির পথে পেঁয়াজের দাম। আলুর দামও হাফ সেঞ্চুরির দিকে। এমনিতেই করোনা ও লকডাউনের জোড়া ফলায় বিদ্ধ সাধারণ মানুষ। তার মধ্যে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হচ্ছে এই আলু-পেঁয়াজের দাম। এই ঝাঁঝে সাধারণ মানুষের চোখে জল। দিন চালাতে পকেট ফাঁকা মধ্যবিত্তের। এই অবস্থায় ক্রেতাদের অভিযোগ, আলু- পেঁয়াজ ও অন্যান্য সব্জির দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ টাস্ক ফোর্স। তার ফলেই হু-হু করে বেড়ে চলেছে দাম।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লাগাতার দাম বাড়তে বাড়তে পেঁয়াজের দাম হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা। অন্যদিকে আলুর দাম বেশির ভাগ জায়গাতেই ৪৫ টাকা প্রতি কেজি। কোথাও কোথাও তো আরও বেশি। পিছিয়ে নেয় সব্জির দামও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা, কুলতলি, জীবনতলা, জয়নগর, মগরাহাট- সহ বিভিন্ন খুচরো বাজারে জ্যোতি আলু কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। চন্দ্রমুখী আলুর দাম কেজি প্রতি ৪৬ টাকা। পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গোটা রাজ্যেই ছবিটা একই রকমের। কলকাতার কোলে মার্কেটে পাইকারি বাজারে আলুর দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। সেখানে জ্যোতি আলুর ৫০ কেজি বস্তার দাম ১৭৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলুর দাম ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা। চন্দ্রমুখী আলু ১৯৫০ টাকা বস্তা। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলুর দাম ৩৯ টাকা।

কিন্তু কেন এভাবে বেড়ে চলেছে আলুর দাম? উত্তর অজানা বিক্রেতাদেরও। আলু ব্যবসায়ীদের মতে, ভিন রাজ্যে আলুর দাম বেশি থাকায় প্রচুর আলু এ রাজ্য থেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। আর সেই কারণে রাজ্যে আলুর দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকে পেঁয়াজ আমদানি কম থাকায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, নতুন আলু বাজারে না আসা পর্যন্ত আলুর দাম আরও বাড়তে পারে। সামনে দীপাবলী, কালীপুজো, কার্তিক পুজো ও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। আর তার আগেই আলু হাফ সেঞ্চুরি করার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি পেঁয়াজও সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছে।

শুধু আলু বা পেঁয়াজ নয়, হু-হু করে বাড়ছে সব্জির দামও। ক্রেতারা জানাচ্ছেন, কোনও সব্জিই এখন ৫০ টাকার নীচে নেই। তাও সব্জি কম খেয়ে তো থাকা যায়। কিন্তু আলু- পেঁয়াজ তো নিত্য প্রয়োজনীয়। তাই এই দুটোর দাম বাড়ায় বেশি সমস্যায় সাধারণ মানুষ।

এদিকে সব্জির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি রাজ্য সরকার পরিচালিত বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছিলেন গত জুন মাসে। সবজির বাজারে কৃত্রিম দাম যাতে মজুতদাররা বাড়াতে না পারে সে বিষয়ে নজর দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল টাস্ক ফোর্সের উপর। টাস্ক ফোর্স গঠন হওয়ার পর আসানসোল, কুলটি, বার্ণপুর, রাণীগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা সবজি মজুতদারদের গুদামে হানা দেয় এবং কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াতে নিষেধ করে আসে। কিন্তু বর্ষা চলে গেলেও সবজির দাম আকাশছোঁয়া। তিন মাস শিল্পাঞ্চলের কোনও সবজি বাজারে টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকদের দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ সাধারণ মানুষের। আর তার ফলে দাম হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ করছেন তাঁরা।

You might also like