Latest News

বর্ধমান স্টেশনের পাশে উড়ালপুল ডুবে অন্ধকারে, নীচের রাস্তা খানা-খন্দে ভরা, মৃত্যুফাঁদ এড়িয়েই চলে যাতায়াত

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বছর খানেক আগে বর্ধমান স্টেশনের পাশে চালু হয় উড়ালপুলটি। তারপর মাস তিনেক জ্বলত ঝলমলে আলো। কিন্তু এখন আর অধিকাংশ আলোই জ্বলে না। ফলে সন্ধ্যা নামলেই উড়ালপুল ডুবে যায় অন্ধকারে। শুধু উড়ালপুল নয়, তার নীচের রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ। প্রতি পদে যেন মৃত্যুর হাতছানি। আর এই মৃত্যফাঁদ এড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বারবার জানিয়েও হয়নি কাজ।

উড়ালপুল থেকে দুটি রাস্তা নেমে যাচ্ছে। একটা রাস্তা যাচ্ছে কাটোয়ার দিকে। অন্যটি যাচ্ছে জেলাশাসকের বাংলোর পাশ দিয়ে কালনার দিকে। দুটি রাস্তার অবস্থা তথৈবচ। একদিকে রাস্তায় আলো নেই। অন্যদিকে একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান জল জমে। গত এক বছর ধরে এই অবস্থা। তাই সন্ধ্যার পরে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। হয় প্রাণহানিও। রাস্তা মেরামত করার জন্য পথ অবরোধও করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ, প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সেটাই সার। কাজ হয়নি।

ওই এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, দিস্তা দিস্তা চিঠি পাঠিয়েও কোন সুরাহা মেলেনি। জেলাশাসক থেকে পুলিশ সুপার- সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে পথবাতি ও রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন করা হলেও কাজের কাজ কিছু হয় নি। দু’দিন বৃষ্টি না হলেই রাস্তায় ধুলো ওড়ে। আর বৃষ্টি হলেই রাস্তার খালে খালে জল জমে যায়। রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। তবু হেলদোল নেই প্রশাসনের। এলাকার বাসিন্দা শেখ রহিম, রবি দাসরা বলেন, যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় বা পথ অবরোধ করে। পুলিশ এসে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। এইভাবেই চলছে গত দেড় বছর ধরে।

বর্ধমান কাটোয়া রোড যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। কাটোয়া ছাড়াও সহজেই মুর্শিদাবাদ যাওয়া যায় ওই রাস্তা ধরে। বর্তমানে লকডাউনের জন্য যানবাহনের চাপ অবশ্য কিছুটা কম। কিন্তু তাতেও সমস্যা রয়েছে।

এই বিষয়ে জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেছেন, পূর্ত বিভাগের নির্বাহী বাস্তুকার ভজন সরকারকে বারবার বলা হয়েছে এই বিষয়টি দেখার জন্য। কিন্তু তাও কেন ওখানে সংস্কারের কাজ হচ্ছে না, সেটা ওনারাই বলতে পারবেন। অন্যদিকে নির্বাহী বাস্তুকার ভজন সরকার বলেছেন, কোভিড ও লকডাউনের জন্য যে সংস্থা কাজ করছে তারা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। তাছাড়া বৃষ্টির জন্য কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই জায়গায় রাস্তা সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে পথবাতি গুলি তাঁদের দফতরের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

ভজন সরকার আরও বলেন, উড়ালপুলের উপর পথবাতি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে রেলের অধিকার রয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে এখনও বেশ কয়েকটি বিষয় হস্তান্তর হয়নি। সেই জন্য তারা কাজ করতে পারছেন না। রেলের আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। জটিলতা কেটে গেলেই সমস্যা মিটে যাবে বলে তিনি জানান।

You might also like