Latest News

বাড়িই নেই তো হোম কোয়ারেন্টাইন! অন্ডালের যুবককে নিয়ে বিপাকে পুলিশ

ওই যুবকের মা-বাবা থাকেন একটি মিষ্টির দোকানে। সেখানে থাকার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে গ্রামবাসীদের। আপাতত তাঁকে একটি কলেজের ঘরে রাখার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডাল থানার শ্রীরামপুর গ্রামের বাপাই বৈরাগ্যর কথা শুনলে মনে পড়ে যেতে পারে রাজার অসুখ গল্পের কথা। সেখানে সদাহাস্য লোকটি মন্ত্রীমশাইকে বলেছিলেন, “চল্লিশ বছর বিছানাই চোখে দেখলাম না, তার আবার তোষক আর গদি!” তখন বিপাকে পড়েছিলেন মন্ত্রীমশাই আর এখন বিপাকে পড়েছেন পুলিশকর্তারা।

শ্রীরামপুর গ্রামের বাসুদেব বৈরাগ্যর ছেলে ২২ বছরের বাপাই মুম্বাই থেকে ফিরে বিপাকে পড়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। বাপাই মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে একটা বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন। সে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই সেখান থেকে এখন ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এই অবস্থায় ছুটি নিয়ে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে তিনি ফিরে এসেছেন রাজ্যে। দুর্গাপুর স্টেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে তাঁকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়। সমস্যা হল যাঁর হোমই নেই তিনি কী ভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন!

অন্ডালের শ্রীরামপুর গ্রামে বাপাইয়ের বাবা বাসুদেব বৈরাগ্যর মিষ্টির দোকান। সেখানেই বাসুদেব ও তাঁর স্ত্রী থাকেন। আলাদা কোনও ঘর-বাড়ি নেই তাঁদের। তাই পুলিশকেই বাপাই বলেছেন তাঁর থাকার ব্যবস্থা করে দিতে।

বাপাইয়ের মা আশালতা বলেন, “আমাদের নিজস্ব কোনও বাড়ি না থাকায় কোনও রকমে আমরা মিষ্টির দোকানে থাকি। আমাদের ছেলে মুম্বাই থেকে ফিরেছে শুনে গ্রামের লোকজন তাকে এখানে থাকতে বাধা দেয়। তাই আমরা পুলিশের কাছে এসেছি থাকার কোনও একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। ছেলের জন্য গ্রামের লোকের অসুবিধা করতে চাই না আমরা।”

অন্ডাল থানার পুলিশ আধিকারিক পার্থ ঘোষ বলেন, “রাজ্য সরকার জেলাতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ পেয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দফতর জায়গা চিহ্নিত করছে যাতে সেখানে বাপাই বৈরাগ্যকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা যায়।” আপাতত তাঁকে একটি কলেজের ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

You might also like