Latest News

সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনায় দেব বনাম দেব, মাথাব্যথা বাড়ছে আলিমুদ্দিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবার যখন সিপিএমের জেলা সম্মেলন পর্ব চলছে তখন সব জায়গায় ঠিকঠাক হলেও আলিমুদ্দিনের দুয়ারেই কুরুক্ষেত্র বেঁধেছিল। জেলা সম্পাদক কে হবেন তা নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল কলকাতা জেলার সম্মেলনে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলা সেই ভোটাভুটিতে ‘আলিমুদ্দিনের প্রার্থী’ মানব মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হয়েছিলেন রাজ্য সিপিএমের ইয়েস ম্যান নন বলে পরিচিত কল্লোল মজুমদার। এবার এখনও পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার জেলা সম্মেলনে ভোটাভুটি হয়েছে। তবে আলিমুদ্দিনের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএম। দেব বনাম দেব লড়াইয়ে শিরপীড়ায় রাজ্য সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এমনিতে উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমে গোষ্ঠী রাজনীতি এবং বিভাজন নতুন নয়। ক্ষমতায় থাকার সময়েও দুই প্রয়াত নেতা অমিতাভ বসু বনাম অমিতাভ নন্দীর লড়াই ছিল সুবিদিত। গঙ্গাপাড়ের সেই জেলায় এবার সিপিএমের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দুই দেবের লড়াইয়ের কথা। কারা তাঁরা? সিপিএম সূত্রে জানা যাচ্ছে, একজন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন জেলা সম্পাদক গৌতম দেব অন্যদিকে নেপালদেব ভট্টাচার্য। নেপাল দেবকে দলের একাংশ সম্পাদক পদে চাইছে। অন্যদিকে, গৌতম দেব চাইছেন হয় বর্তমান জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তীকেই ওই পদে রেখে দেওয়া হোক। অথবা পলাশ দাস কিংবা তন্ময় ভট্টাচার্যকে করা হোক জেলা সম্পাদক।

*বিরোধ যেখানে

উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমের বর্তমান সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী দলে গৌতম দেবের লোক হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু তিনি অসুস্থ। মাঝে চিকিৎসার জন্য তাঁকে দীর্ঘ সময় ভিনরাজ্যেও থাকতে হয়েছিল। এখন তাঁর জায়গায় কে সম্পাদক হবেন? এই নিয়েই মূলত লড়াই।

গৌতম দেব শিবিরের লোকজনের বক্তব্য, তাঁরা দু’জনকে সামনে রাখতে চাইছেন। এক পলাশ দাশ। যিনি এখন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। দুই, উত্তর দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য।

আবার অন্যদিকে একটা বড় অংশ চাইছে নেপালদেবকে সন্দেশখালি থেকে সল্টলেক পর্যন্ত বিস্তৃত জেলার সম্পাদকের দায়িত্ব দিতে। নেপাল দেবের পিছনে কারা রয়েছেন? সিপিএমের এক নেতার কথায়, নেপালবাবুর পিছনে রয়েছেন তিনজন রাজ্য কমিটির সদস্য। সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সদ্য যুব ফ্রন্ট ছাড়া সায়নদীপ মিত্র। কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়ও নাকি এখন এইদিকেই।

আবার গৌতম দেব ব্রিগেডে নাকি সিটুর রাজ্য সভাপতি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, এসএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক তথা জেলার যুব নেতা দেবজ্যোতি দাসরা রয়েছেন। তাঁরা নিজেদের মতো করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন।

*আলিমুদ্দিনের মনোভাব কী?

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, আমরা কখনই চাই না জেলা সম্মেলনে ভোটাভুটি হোক। ঐক্যমতের ভিত্তিতে সম্পাদক নির্বাচন করাই শ্রেয়। তবে তিনি এও বলেছেন, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর একটা বড় অংশ চায় না তন্ময় সম্পাদক হোন। পলাশের ক্ষেত্রে আবার তাঁদের আপত্তি নেই।

আবার নেপালদেব অ্যাণ্ড কোং চায় উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমের ভরকেন্দ্র বদলাক। তাঁদের মতে, মৃণাল, পলাশ, তন্ময়—এই তিন জনের যাঁকেই সম্পাদক করা হোক না কেন তাতে গৌতম দেবের হাতেই জেলা পার্টির রিমোট থেকে যাবে।

উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমের এই বিভাজন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে কারণে একেবারে শেষে এই জেলার সম্মেলন হবে। ৭-৯ মার্চ নৈহাটির ঐকতান হলে সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলন হবে। তার আগে ৬-৮ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্মেলন। এমন ভাবে উত্তর ২৪ পরগনার সূচি রাখা হয়েছে যাতে শেষ দিন পরিস্থিতি সামাল দিতে গোটা আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সেখানে পৌঁছতে পারে।

এখন কী হতে পারে?

অনেকের মতে, যদি দেখা যায় শারীরিক ভাবে অসুস্থ মৃণাল চক্রবর্তীকে ফের সম্পাদক করা হয়েছে তাহলে বুঝতে হবে রাজ্য সিপিএম সংঘাতের পথে না হেঁটে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চাইছে। অতীতে এমন ভাবেই গোষ্ঠী কোন্দল সামাল দিতে গৌতম দেবকে জেলা সম্পাদক করে দেওয়া হয়েছিল। পলিটব্যুরোর বিশেষ অনুমতি নিয়ে কেন্দ্র, রাজ্য এবং জেলা তিন স্তরে ছিলেন গৌতম দেব। যা সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয় না। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএম এখন কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে আলিমুদ্দিনের নেতাদের।

You might also like