Latest News

প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে সরাসরি ধার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক রাজ্যকে

চা শ্রমিক ও জুট মিলের শ্রমিকদের মজুরি সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বলেছেন, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য যেন বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করে কেন্দ্র।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড সংক্রমণের জন্য রাজস্ব ঘাটতির কথা জানিয়ে এর আগেও নবান্নের তরফে বার বার বলা হয়েছে, বকেয়া টাকা দ্রুত দিক কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে তা ফের বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে নতুন একটি দাবি জানিয়েছেন তিনি। তা হল—রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে রাজ্যগুলিকে সরাসরি ধার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

ধার নেওয়া মানেই সুদ গুণতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রেপো রেটে সেই টাকা ধার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত রাজ্যগুলিকে। সেই সঙ্গে রাজ্যের চলতি ধারের উপর সুদ দেওয়ার উপর অন্তত এক বছরের মোরাটোরিয়াম তথা স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে টাকা ধার দেয় তাকে বলা হয় রেপো রেট। কোভিড সংকটের কারণে গোটা দেশে লকডাউন শুরু হওয়ার পর পরই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঐতিহাসিক ভাবে রেপো রেট কমিয়ে দেয়। বর্তমানে রেপো রেট হল, ৪.৪০ শতাংশ। গত ১৫ বছরে রেপো রেট এত কম কখনও ছিল না। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি যাতে আরও বেশি করে ঋণ নিতে পারে সে কারণেই রেপো রেট কমায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। একই কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রিভার্স রেপো রেট কমিয়ে ৩.৭৫ শতাংশ করে দিয়েছে। কারণ, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি যাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে টাকা গচ্ছিত রাখতে উৎসাহিত হয়। বরং ঋণ দিতে ব্যবহার করে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, তা বলে কি কোনও রাজ্য সরকারকে ঋণ দিতে রাজি হবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক? বিশেষ করে যখন পশ্চিমবঙ্গের ঋণের বহর এতটাই যে পুরনো ধারের সুদ দিতে গিয়েই জেরবার অবস্থা। তার উপরে আবার এখন রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী: কেন্দ্র যখন সবই খুলে দিয়েছে, ১৭ তারিখের পর লকডাউন চালিয়ে কী লাভ!

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের থেকে বিভিন্ন খাতে রাজ্যের বকেয়া পাওনা এখন ৫২৯৭২ কোটি টাকা। এক, কেন্দ্রের অনুদানে চলা প্রকল্প খাতে (যেমন একশ দিনের কাজ প্রকল্প) বকেয়া পাওনা রয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। দুই, পণ্য পরিষেবা কর তথা জিএসটি বাস্তবায়ণের কারণে ক্ষতিপূরণ বাবদ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত বকেয়া পাওনা রয়েছে ২৩৯৩ কোটি টাকা। তিন, খাদ্যে ভর্তুকি বাবদ পাওনা রয়েছে ৩৫৭৯ কোটি টাকা। সর্বোপরি অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কর আদায় থেকে রাজ্যের যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল তাও পুরোটা পাওয়া যায়নি। ১১ হাজার কোটি টাকা কম পেয়েছে রাজ্য।

প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী এদিনও বলেছেন, চলতি আর্থিক বছরের জন্য এফআরবিএম-র সীমা (মোদ্দা কথায় আর্থিক ঘাটতি) ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার অনুমতি দেওয়া হোক রাজ্যগুলিকে।

আরও পড়ুন লকডাউন কি চলবে? এর পরে কী? জানুন কোন মুখ্যমন্ত্রী মোদীকে কী বললেন

এ ছাড়া চা শ্রমিক ও জুট মিলের শ্রমিকদের মজুরি সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বলেছেন, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য যেন বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করে কেন্দ্র।

You might also like