Latest News

ফের শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আক্রমণে কল্যাণ, ‘কুকথা’ শ্রীরামপুরের সাংসদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামের মাটিতে শুভেন্দু অধিকারীর মাইলফলক বক্তৃতার পর তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুর টাউনহলের সভা থেকে বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মিউনিসিপ্যালিটির বাইরে আলু বেচতিস রে আলু বেচতিস!” তারপর শুভেন্দু তৃণমূলে থাকার সময়েই বলাগড়ের একটি কর্মসূচি থেকে কল্যাণের নাম না করে অনিল বসু, বিনয় কোঙারদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

তারপর শুভেন্দুর সঙ্গে সৌগত রায়, প্রশান্ত কিশোর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে বৈঠকের পর যখন দমদমের সাংসদ বললেন, সব মিটে গেছে, তখন কল্যাণবাবু গলে জল হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, শুভেন্দু আমার ছোট ভাইয়ের মতো। শিশির অধিকারী আমার পিতৃতুল্য। ইত্যাদি, প্রভৃতি।

কিন্তু সে তো নভেম্বর-ডিসেম্বরের কথা। এখন শুভেন্দু বিজেপির নেতা। জেলায় জেলায় ঘুরে তৃণমূল তথা ‘পিসি-ভাইপো’র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন। তখন শনিবার বিকেলে ব্যারাকপুরের সভা থেকে সেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লাগামহীন আক্রমণ শানালেন কল্যাণ।

এদিন আইনজীবী সাংসদ বলেন, “সৌগতদারা চেষ্টা করছিল। আমি তখনই জানতাম এই মালের আর কিছু হওয়ার নেই। যার হয় না নয়ে তার হয় না নব্বইতে।” শুভেন্দুকে মীরজাফর বলেও আক্রমণ শানান কল্যাণ।

শুধু শুভেন্দু নন। এদিন কল্যাণের নিশানায় ছিলেন মুকুল রায়, অর্জুন সিংও। বলেন, “দিদি যাকে যত বেশি দিয়েছে। সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একজন রেলমন্ত্রী হয়েছিল। সে তো ইংরাজিটাও বলতে পারে না। বলে, আই ডাজ নট নো। সুতরাং এদের শিক্ষাদীক্ষা কী জানা আছে।” অর্জুন সম্পর্কে কল্যাণ বলেন, “এই এখানকার সাংসদের জন্য এত হিংসা, খুন, সন্ত্রাস হয়েছে যে ব্যারাকপুর রোজ সংবাদ শিরোনামে থাকত।”

এ ব্যাপারে বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, “তার মানে কল্যাণবাবু মেনে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। আর মণীশ শুক্লকে কারা খুন করেছে সবাই জানে। এটাও সবাই জানে ভাটপাড়া থেকে টিটাগড় পর্যন্ত কারা সন্ত্রাস চালিয়েছে। লোকসভায় জবাব পেয়েছে। এবার বিধানসভাতেও পাবে।”

এমনিতে অনেকেই বলেন, কল্যাণবাবুর মুখে লাগাম নেই। জেলার তৃণমূল নেতারাও এ ব্যাপারে তিষ্টতে পারেন না বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ অনেক পুরনো। একবার তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাল দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “কল্যাণের গলার জোরকে অনেকে দুর্ব্যবহার ভাবেন। কিন্তু উকিলদের গলার জোর থাকতে হয়। নাহলে কোর্টে কথা শোনা যায় না।”

শুভেন্দু অনুগামীরা বলছেন, “কল্যাণবাবু নিজেকে আইনজীবী বলেন। যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে তো বোঝাই যাচ্ছে কার কী শিক্ষাদীক্ষা। আর উনি দাদাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, পদ ছেড়ে কথা বলতে। দাদা সব ছেড়ে দিয়েছেন। দাদার ছাড়া পদেই (এইচআরবিসি চেয়ারম্যান) আবার ওঁকে গিয়ে বসতে হয়েছে। এখন কথা হচ্ছে। একুশের পর উনি আর কথা বলার জায়গায় থাকবেন বলে মনে হয় না।”

You might also like