Latest News

তৃণমূলেই থাকছি, দিদির কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইব, কলকাতায় বৈঠকের পর জিতেন্দ্র

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেল বেলাও বলেছিলেন, আমি এখন কোনও দলে নেই। কয়েকদিন ধরে যা গেছে তাই চাপ কাটাতে মেয়ের কাছে এসেছেন।

রাতেই অবস্থান বদলে ফেললেন তৃণমূলের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলেই আছেন, তৃণমূলেই থাকবেন।

ক্যামাক স্ট্রিটে এসেছিলেন জিতেন্দ্র। বিকেলে তাঁকে সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, এখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস রয়েছে। আপনি কি দেখা করবেন? তিনি বলেন, “দেখা করব। তবে রাজনৈতিক কারণে নয়। ব্যক্তিগত কারণে।”

এরপর নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ ক্লাবে যান জিতেন্দ্র। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন,  “তৃণমূলেই আছি। কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, মিটে গেছে। দল ছাড়ার কথা বলা ভুল হয়েছিল। দিদি আমার আচরণে দুঃখ পেয়েছেন। দিদিকে দুঃখ দিয়ে এই পৃথিবীতে আমি বাঁচতেই পারব না। তাঁর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইব। বিজেপিতে যাব কখনও বলিনি।”

গত কয়েকদিনে ধরেই সংবাদ শিরোনামে জিতেন্দ্র। সূত্রপাত ছিল একটি চিঠি। আসানসোল কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন জিতেন্দ্র। যাতে তিনি লিখেছিলেন, স্রেফ রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি মিশনের টাকা আসানসোলকে নিতে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল রাজ্য সরকার দেবে কিন্তু তা দেয়নি।

কনফিডেনশিয়াল এই চিঠি ফাঁস হতেই বাংলার রাজনীতিতে হইহই পড়ে যায়। ববি হাকিম বলে দেন, জিতেন্দ্র বিজেপির মতো কথা বলছেন। পাল্টা জিতেন্দ্র বলেন, আপনার মতো তো কলকাতাকে মিনি পাকিস্তান করার কথা বলিনি!

এই সব চলতে চলতেই একটি সরকারি কর্মসূচি থেকে রাস্তায় মাইক হাতে ববি হাকিমের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন জিতেন্দ্র। তারিফ করেন শুভেন্দু অধিকারীর জনপ্রিয়তার। জিতেন্দ্র বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী গুলির মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন। ববি হাকিম তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলবেন সেটা মানায় নাকি? এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে তৃণমূলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী।”

পশ্চিম বর্ধমানের রাস্তায় যখন জিতেন্দ্র এসব বলছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে। দুপুরেই ফোন করে দিদি বলেন মাথা ঠান্ডা করতে। কিন্তু ওই রাতে জিতেন্দ্র হাজির হন কাঁকসায় বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে। সেখানে গিয়েছিলেন শুভেন্দুও।

তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনও মন্তব্য জিতেন্দ্র করেনি। অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করে নেন। বৃহস্পতিবার আসানসলের পুর প্রশাসক পদ ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন জিতেন্দ্র। এর পরেই আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, আসানসোল-দুর্গাপুরে যে সন্ত্রাস হয়েছে তার অন্যতম নায়ক জিতেন্দ্র। তিনি বিজেপিতে এলে মন থেকে মানতে পারব না।

এরপরেই মান-অভিমান ঘোচাতে আরও তৎপর হয় তৃণমূল। আপতত তাতে সফল তৃণমূল নেতৃত্ব।

যদিও অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে মিনিটে মিনিটে অনেক পরিবর্তন হতে পারে। কে বলতে পারে আবার জিতেন্দ্রর মত পাল্টাবে না!

You might also like