Latest News

ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে ডাইনি অপবাদে নৃশংস অত্যাচার শবর বিধবাকে, অভিযুক্ত বিজেপি

গরম রডের ছ্যাঁকা মহিলাকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের ভালকিশোল গ্রামে ডাইনি অপবাদে এক শবর মহিলাকে নৃশংস ভাবে অত্যাচারের অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই বিজেপি নেতা রবীন্দ্র হাঁসদা, তাঁর পরিবার ও দলবল চম্পা আড়ি নামে এক মহিলাকে গরম রডের ছ্যাঁকা দেন। চম্পা আড়ি বিধবা, তাঁর বয়স ষাট বছর পেরিয়ে গেছে।

কেন তাঁর উপরে অত্যাচার করা হয়েছে সেব্যাপারে কেউ কোনও কথা বলছেন না। ঘটনা দিন দুয়েক আগের হলেও সম্প্রতি জানাজানি হওয়ার পরে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বৃদ্ধার ছেলে সুশীল আড়ি থানায় যে অভিযোগ করেছেন তার বয়ান অনুযায়ী, ৮ মার্চ সন্ধ্যায় মহিমনিশ্চিন্তার বাগমারী গ্রামের রবীন্দ্রনাথ হাঁসদা বাড়িতে এসে তাঁর মা চম্পা হাঁসদাকে চুলের মুঠি ধরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী দুলালি হাঁসদা মুর্মু ও শাশুড়ি তাঁর হাত-পা চেপে ধরেন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে লোহার রড দিয়ে ছ্যাঁকা দিতে থাকেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর শরীরে গোপন অংশেও ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এই ঘটনা প্রকাশ করলে তাঁকে পুড়িয়ে মেরে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তাই ঘটনার পর থেকে বাড়িতেই ছিলেন চম্পা।

বৃদ্ধা আদিবাসী মহিলার উপরে বর্বর অত্যাচারের নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাঁকরাইল ব্লক যুব সভাপতি শান্তনু ঘোষের বক্তব্য, “আদিবাসী শবর মহিলার উপরে নারকীয় অত্যাচার করা হয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে যে, আজকের দিনেও ডাইনি অপবাদ দিয়ে সহজ-সরল মহিলাকে অত্যাচার করা হয়েছে। লোহার রড গরম করে সারা গায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে আমরা বলেছি যাতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করে।”

ঝাড়গ্রামের বিজেপি জেলা সম্পাদক অবণী ঘোষ বলেন, “এরকম খবর আমাদের কাছে নেই আর এর সঙ্গে বিজেপি কোনও ভাবে জড়িত হতে পারে না কারণ এটি অমানবিক ও জঘন্য কাজ। যদি বিজেপির কেউ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে এবং প্রশাসন যদি কোনও ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমাদের কোনও আপত্তি থাকবে না।”

চম্পা আড়ি এখন ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চম্পা আড়ির পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ সুধীর হেমব্রম, ভীম সরেন ও অরুণ সরেন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। মূল অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ হাঁসদা পলাতক। ধৃতদের ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে তাদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

You might also like