Latest News

কোচবিহারে টিএমসিপি নেতা মাজিদ আনসারি খুনের ঘটনায় তিন অভিযুক্ত পুনেতে গ্রেফতার

দ্য ওয়াল ব্যুরোতৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা হলেও তাঁর ‘অপরাধ’ ছিল কলেজে ভর্তিতে বহিরাগতদের নাক গলাতে বাধা দিয়েছিলেন তিনি। সেই বহিরাগতরাও অনেকে হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদেরই কর্মী বা তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ। সেই লঘু অপরাধে কোচবিহার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাজিদ আনসারিকে কিছুদিন আগে গুলি করে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা।

বুধবার অভিযুক্তদের তিন জনকে পুনে থেকে গ্রেফতার করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ওই তিন অভিযুক্ত হল, সায়ান হক ওরফে লোটাস, নবাব হেদায়েতুল্লাহ ও সঞ্জিত সাহানি। প্রসঙ্গত, মাজিদ খুন হওয়ার পর হেদায়েতুল্লাহ ও সঞ্জিত সাহানির ছবি দিয়ে কোচবিহার শহর জুড়ে ফ্লেক্স টানিয়ে দিয়েছিলেন মাজিদের সহপাঠীরা। এর আগে মাজিদ খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সুরজ হোসেন ওরফে ‘স্পিড বয়’-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অারও পড়ুন: অভিযুক্তদের চিনিয়ে দিতে ফ্লেক্স কোচবিহারে

সূত্রের খবর, মাজিদ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের এবং তাদের পরিবারের লোকজনের ফোন অনেক দিন ধরেই ট্র্যাক করছিল পুলিশ। আর সে ভাবেই পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্ত কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে কোচবিহার থেকেই টাকা ট্রান্সফার করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে কোতোয়ালি থানার একটি টিম কয়েকদিন আগে পুনে পৌঁছে যায়। তারা সেখানে ওই তিন জনের তল্লাশি শুরু করে। তার পর হদিশ পাওয়ার পর খবর পাঠায় কোচবিহারে। এ বার রওনা হন কোতোয়ালি থানার আইসি সমীর পাল। তার পর পূর্ব পরিকল্পনা মতো বুধবার সন্ধ্যার পর পুনের চতুর সিংহ পুলিশ স্টেশনের কাছে ‘গ্রীন বার’ থেকে ওই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কোচবিহারের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার এই তিন অভিযুক্তকে শিবাজি নগর আদালতে তোলা হবে, তার পর ট্রান্সজিট রিমান্ডে তাদের কোচবিহার আনা হবে।

প্রসঙ্গত, মাজিদ খুনের ঘটনায় শুধু কোচবিহারে নয় গোটা রাজ্যতেই সোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কেননা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের কিছু নেতা এ ঘটনায় জড়িত বলে গোড়া থেকে অভিযোগ ছিল। তা ছাড়া এও অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ। এ ব্যাপারে নবান্নে নিজের ঘরে ডেকে রবীন্দ্রনাথ বাবুর কাছে খোঁজও নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মাজিদ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির তদন্ত শেষ করে দোষীদের সাজা দেওয়া যাবে।

You might also like