Latest News

গঙ্গাসাগরের প্রস্তুতি নিয়ে মুখ্যসচিবের থেকে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগর মেলা হবে কিনা তার নির্দেশ এখনও দিল না হাইকোর্ট। বরং মেলার আগে সেখানকার পরিস্থিতি কেমন রয়েছে তা খতিয়ে দেখে মুখ্যসচিবকে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই রিপোর্ট দেখেই হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে মেলা হবে কিনা।

হাইকোর্ট সূত্রে খবর, মেলার প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্যের প্রাথমিক রিপোর্টে সন্তুষ্ট আদালত। কিন্তু মেলা প্রাঙ্গনে থার্মাল চেকিং, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রচার চালানোর বিষয়ে রাজ্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে সেইসব ব্যাপারে সবিস্তারে রাজ্যকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এদিন শুনানিতে রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামীকাল থেকেই মাইকে ঘোষণা করতে হবে যাতে কেউ জলে না নামেন। কারণ এই পরিস্থিতিতে জলে নামলে কতটা ক্ষতি হতে পারে সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে তাঁরা যেন ই-স্নানে বেশি আগ্রহী হন। ১৩ জানুয়ারি মুখ্যসচিবকে জানাতে হবে এই নির্দেশ কতটা কার্যকর করা হয়েছে। তারপরেই এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

শুনানি চলাকালীন রাজ্যের কাছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবি রাধাকৃষ্ণণ জানতে চান, এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় কেন ই-স্নান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না? কারণ এর মানুষ যদি একসঙ্গে জলে নামে তাহলে তো সেটাই মহামারী ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট হবে। তাই যদি জলে না নেমেই জল পাওয়া যায় তাহলে কোথায় সমস্যা রয়েছে? এই প্রসঙ্গে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গঙ্গাসাগরে ই-স্নান কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না? কারণ পুরী-সহ অন্যান্য অনেক জায়গায় কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এখানে অনেক বেশি মানুষ যান। তাই এখানে সেটা করা সম্ভব নয়।

রাধাকৃষ্ণণ আরও প্রশ্ন করেন, শবরীমালা মন্দিরে স্নান বন্ধ হলে গঙ্গাসাগরে বন্ধ হবে না কেন? কারণ করোনার সময় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বন্ধ থাকায় মানুষ যাননি। আমাদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টই মন্দির। এখানকার গেটে যে স্যানিটাইজার দেওয়া হয় সেটাই চরণামৃত। সাধারণ মানুষকে সেটা বোঝাতে হবে। নইলে মানুষ অজান্তেই নিজের বিপদ ডেকে আনবে।

হাইকোর্টের এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের তরফে এজি বলেন, একসঙ্গে যাতে বেশি মানুষ না যান সেটা ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কিয়স্ক থেকেই লোকে জল নিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। যাতে বেশিক্ষণ জলে দাঁড়াতে না হয় সেটাও দেখা হবে।

এখন দেখার ১৩ তারিখে মুখ্যসচিবের রিপোর্টের পরে হাইকোর্ট কী রায় দেয়।

You might also like