Latest News

উপনির্বাচন নিয়ে হাত গুটিয়ে কমিশন, দিশাহীন সিইও দফতর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার সাত বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দাবি নিয়ে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা। কিন্তু মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, তৃণমূল নেতাদের বলা হয়েছে, এখানে সমস্ত প্রস্তুতি থাকলেও দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে এখনও কোনও সঙ্কেত আসেনি বাংলায় উপনির্বাচনের ব্যাপারে।

সূত্র মারফত এও জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে পরামর্শ দিয়েছেন, আপনারা আবার দিল্লির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে তদ্বির করুন। এখানে সমস্ত প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না ওখান থেকে নির্দেশ আসছে ততক্ষণ কিচ্ছু করা যাবে না।

গত মাসেই ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে উপনির্বাচনের দাবি জানিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তা নিয়ে দিল্লি কোনও জবাব না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলও। মনে করা হচ্ছে, শিগগিরই ফের একবার দিল্লির নির্বাচন সদনে দরবার করতে পারে বাংলার শাসকদল।

এ ব্যাপারে দ্য ওয়াল-এর তরফে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিজেপি নির্লজ্জ পার্টি। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে এটা আমার মনে হয়, ওরা এত বড় নির্লজ্জতা করবে না। শেষ পর্যন্ত ভোটটা করাবে।” যদিও জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এখনও বাংলার সাত কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে কোনও বৈঠক দিল্লির কর্তারা করেননি।

সিইও দফতর যে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তা টের পাওয়া গিয়েছিল গত ১৬ জুলাই। সেদিনই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব পাঁচ জেলাকে চিঠি লিখে নির্দেশ দেন, সাত কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য প্রথম ধাপের ইভিএম ও ভিভিপ্যাট চেকিংয়ের কাজ সেরে ফেলতে হবে।

৩ অগস্ট থেকে ৬ অগস্টের মধ্যে প্রথম ধাপের চেকিং সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত চার দিনে সেদি কাজ হয়েওছে। যে সাত কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে সেগুলি হল ভবানীপুর, গোঁসাবা, খড়দহ, শান্তিপুর, জঙ্গিপুর, শামসেরগঞ্জ এবং দিনহাটা। এই কেন্দ্রগুলি কলকাতা দক্ষিণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলা নির্বাচনের অন্তর্ভুক্ত। মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্রের ভোট হয়নি। তাই ওই জেলার জেলা শাসকদের এই চিঠি পাঠানো হয়নি। বাকি কেন্দ্রগুলি যে জেলার মধ্যে পড়ে সেখানকার জেলা শাসকদের চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

তৃণমূলের উপনির্বাচনের দাবি নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “বিজেপি রাস্তায় নামলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে কোভিড বিধির দোহাই দিয়ে। ভোট হলে তো প্রচার করতে দিতে হবে। সেই পরিস্থিতি বাংলায় নেই। আগে সেই পরিস্থিতি হোক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক তারপর তো ভোট হবে। নইলে ভোট হবে কী ভাবে?”

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার উপনির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন। মাস দেড়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলায় কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কমিশন চাইলে সাত দিনের নোটিসে ভোট করাতে পারে। তারপর এও বলেছিলেন, আমি তো দেখলাম ভবানীপুরে কোথাও কোথাও করোনা শূন্য।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছেন। যদিও তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। তবে তাঁকে ছমাসের মধ্যে অন্য কেন্দ্র থেকে জিততে হবে। দিদি যে ভবানীপুর থেকে লড়বেন তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ ভবানীপুরের জয়ী বিধায়ক তথা বিদ্যুত্মতন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি লড়বেন খড়দহ থেকে।

তৃণমূলের অনেকের সন্দেহ, বিজেপি চাপ দিয়ে বাংলায় উপনির্বাচন আটকে রেখেছে। যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী থাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি করা যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই কারণেই উপনির্বাচন নিয়ে এত তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস।

You might also like