Latest News

‘বুড়ো হঠাও’ অভিযান পাড়ার সিপিএমেও, প্যাভেলিয়নের পথে বৃদ্ধতন্ত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৭৫ বছরের বেশি কেউ থাকবেন না। তা ইতিমধ্যেই বেঁধে দিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরিরা। রাজ্য সিপিএমেও ৭২-এর বেশি কেউ ঠাঁই পাবেন না। ঠিক করে ফেলেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। জেলায় সর্বোচ্চ বয়স ৭০ আর পাড়ার সিপিএম অর্থাৎ এরিয়া কমিটিতে ৬৫ হলে আর থাকা যাবে না।

এ তো শুধু সর্বোচ্চ বয়সসীমা। কিন্তু তলার স্তরের কমিটিতে পক্ককেশ বেছে তাঁদের প্যাভেলিয়নের পথ দেখাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। যা বড়সড় সাংগঠনিক সংস্কার হিসেবে মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি সিপিএমের ২ ও ৩ নম্বর পার্টি চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। ২ নম্বর পার্টি চিঠিতে রয়েছে একুশের নির্বাচনী পর্যালোচনা। কেন্দ্রীয় কমিটি যে পর্যালোচনা ওয়েবসাইটে দিয়েছিল তারই বঙ্গানুবাদ রয়েছে এখানে। আর ৩ নম্বর পার্টি চিঠিতে রয়েছে সম্মেলন সংক্রান্ত নির্দেশিকা। যার ছত্রে ছত্রে ইঙ্গিত রয়েছে, সংগঠনে বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

রাজ্য, জেলা, এরিয়া ও শাখা কমিটির সম্মেলন কী ভাবে হবে, নতুন কমিটি কেমন হবে সেসব ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা রয়েছে। তিন নম্বর পার্টি চিঠির ১৮ পাতায় এরিয়া কমিটির সম্মেলন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় সিপিএম রাজ্য কমিটি লিখেছে, ‘কমিটিতে থাকবেন কমপক্ষে ২জন মহিলা, কমপক্ষে ১ জন অনূর্ধ্ব ৩১ বছর বয়সী। উপযুক্ত সদস্য না পেলে পরবর্তী সময়ে পূরণের জন্য ফাঁকা রাখতে হবে।’ এই নিয়ম নতুন নয়। আগের বারও তা ছিল। কিন্তু এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছে সিপিএম।

এরিয়া কমিটি গঠনের প্রশ্নে সিপিএম বলেছে, ‘অনধিক ৪০ বছর বয়সের সদস্যদের অগ্রাধিকার দানের বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। এরিয়া কমিটির সদস্যদের গড় বয়স কমাতে হবে। সদস্যদের বয়সসীমা ৬৫ বছরের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে এবং অর্ধেক সদস্যের বয়স সাধারণভাবে ৫০ বছরের নীচে থাকা বাঞ্ছনীয়।’

তাহলে হিসেবটা কেমন দাঁড়াল?
ধরা যাক কোনও এরিয়া কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ জন। সেখানে দু’জন মহিলা এবং একজন অনূর্ধ্ব ৩১-এর জন্য আসন সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে বাকি থাকবে ১২ জন। এর ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ জনের বয়স পঞ্চাশের মধ্যে হওয়াকে বাঞ্ছনীয় বলছে সিপিএম। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে এলাকার সিপিএমের নেতা হয়ে বসে থাকা বহু পাকা মাথাকে এবার কমিটির মায়া ত্যাগ করতে হবে।

গতবার যখন সিপিএমের এই সম্মেলন প্রক্রিয়া চলছে তখন দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলা সম্মেলনে গিয়ে মজার একটি গল্প বলেছিলেন প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসু। একটি এলাকার সম্মেলনের পর তাঁর কাছে গিয়ে নাকি স্থানীয় এক নেতা খুব দুঃখ করেছিলেন। সেই নেতাকে জোনাল কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে। কেন? বিমানবাবু বলেছিলেন, ওই নেতা প্রায় ছলছল চোখে বলেছিলেন, এবার শালি-ভায়রাভাইদের সামনে তিনি মুখও দেখাতে পারবেন না। কারণ তিনি বলতে পারবেন না জোনাল কমিটির মেম্বার।

বর্ষীয়ান বিমানবাবুর এই কথা শুনে সম্মেলনের প্রতিনিধিরা হো হো করে হেসে উঠেছিলেন। হাসি থামিয়ে সেদিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘হাসবেন না। এটা হাসির কথা নয়। জোনাল কমিটির মেম্বার হওয়া যদি কোনও নেতার শালি-ভায়রাভিয়ায়ের কাছে স্টেটাস সিম্বল হয় তাহলে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নিন আর সেটাও কমিউনিস্ট পার্টি নয়।’ অনেকের মতে, যুগযুগ ধরে নতুনদের উঠতে না দিয়ে চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকা সিপিএমের মাঝের তলার নেতাদের এবার লালকার্ড দেখাতে চাইছে রাজ্য কমিটি।

You might also like