Latest News

উমফানের ক্ষতিপূরণের তালিকায় স্ত্রীর নাম, হুগলির গরলগাছার পঞ্চায়েত প্রধানকে পদত্যাগ করতে বলল তৃণমূল

বাড়ির ক্ষতি হয়েছে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের তালিকায় পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর স্ত্রীর নাম তুলে দিয়েছেন অথচ ঝড়ে প্রকৃতই বাড়ির ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ না পেলে সমস্যায় পড়বেন এমন অনেকের নাম তালিকায় নেই বলে অভিযোগ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের ঝড়ে বাড়ির ক্ষতি হয়েছে দেখিয়ে স্ত্রীকে টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল হুগলির চণ্ডীতলা ২ নম্বর ব্লকের গরলগাছার পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এই অভিযোগ ওঠার পরে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিংকে পদত্যাগ করতে বলল তৃণমূল কংগ্রেস। এব্যাপারে প্রশাসনিক তদন্তও শুরু হয়েছে।

মনোজ সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ির ক্ষতি হয়েছে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের তালিকায় তিনি তাঁর স্ত্রী মিনতি সিংয়ের নাম তুলে দিয়েছেন। ঝড়ে প্রকৃতই বাড়ির ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ না পেলে সমস্যায় পড়বেন এমন অনেকের নাম তালিকায় নেই বলেও অভিযোগ।

ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সরব হয় বিজেপি। তারা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখায়। এরপরে পঞ্চায়েত প্রধানের স্ত্রী-সহ মোট ৯২ জনের নাম বাদ দিতে বলে বিডিওর কাছে তারা আবেদন করে। প্রথমে ১১৯ জনের নামের তালিকা তৈরি হয়েছিল।

হুগলি জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, “উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে গরলগাছা পঞ্চায়েতে দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওই গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিংকে ইস্তফা দিতে বলেছেন। তাতে অনুমোদন দেন সুব্রত বক্সী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” গরলগাছার পঞ্চায়েতপ্রধান এখনও পদত্যাগপত্র জমা দেননি বলে খবর।

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিং

 

বুধবার চণ্ডীতলা ২ নম্বর ব্লকে একশো দিনের কাজ (এমজিএনরেগা) নিয়ে বৈঠক করেন হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) প্রলয় মজুমদার, শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসক সম্রাট চক্রবর্তী প্রমুখ। সেই বৈঠকে ব্লকের অন্য সব পঞ্চায়েতের প্রধানরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন গরলগাছার প্রধান মনোজ সিং। দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই পঞ্চায়েতে আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে পঞ্চায়েত স্তর থেকে অনেক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনও রকম আপোষ করা হবে না। প্রশাসনকে সাংসদ নির্দেশ দিয়েছেন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে। কোনও রকম স্বজনপোষণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উমফানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে অবশ্য এই প্রথম অভিযোগ উঠল এমন নয়। এর আগে নদিয়া জেলা থেকেও অভিযোগ উঠেছিল প্রকৃত যাঁদের ক্ষতি হয়েছে উমফানে তাঁদের অনেকে ক্ষতিপূরণ পাননি অথচ যাঁদের আদৌ ক্ষতি হয়নি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তাঁরা। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গা থেকেও উমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

You might also like