Latest News

দুর্গাপুরে পাঁচটি স্কুলে বিক্ষোভ অভিভাবকদের, গেটে তালা, মধ্যস্থতায় পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: দুর্গাপুরের বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে ফিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব থামার লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে টানা আন্দোলনের পর এবার পাঁচটি বেসরকারি স্কুলে প্রায় একযোগে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। এমনকি তালা ঝুলিয়ে দেন ওই সব স্কুলের গেটে।

বৃহস্পতিবার সগরভাঙা, বিধাননগর ও ইস্পাতনগরীর পাঁচটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হন অভিবাবকরা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন যতদিন না পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র অন-লাইন স্কুল ফি ছাড়া অন্য খাতে টাকা নেওয়া বন্ধ করছে তত দিন তাঁরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিন সবচেয়ে বেশিক্ষণ বিক্ষোভ চলে দুর্গাপুরের ডিএভি স্কুলে। যদিও শেষ পর্যন্ত পুলিশের মধ্যস্থতায় অভিভাবকরা স্কুলের তালা খুলে দেন। তবে তার আগে স্কুলের গেটে পুলিশের সঙ্গে অভিভাবকদের তীব্র বাদানুবাদ হয়।

এদিন প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দির স্কুলেও তালা ঝুলিয়ে দেন অভিভাবকরা। প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দিরের এক পড়ুয়ার অভিভাবক বিদিশা দাশগুপ্ত জানান, তাঁর মেয়ের এবার নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ৬০০ টাকা জমা দিতে যান। অভিযোগ, স্কুল কতৃর্পক্ষ তাঁকে জানিয়ে দেয় মার্চ মাস থেকে সমস্ত বকেয়া টিউশন ফি জমা না দিলে নতুন করে ভর্তি নেওয়া হবে না। তিনি জানান, লকডাউনের ফলে আর্থিক ভাবে সমস্যায় পড়ে যাওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেছিলেন যাতে লকডাউনের সময়ের ফি মকুব করা হয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই সেই অনুরোধ মানতে চায়নি। এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই তাঁরা স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেন। তাঁরা হুমকি দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। পরে সেখানেও পুলিশ গিয়ে মধ্যস্থতা করে। শেষ পর্যন্ত তালা খোলা হয়। আগামীকাল শুক্রবার স্কুল কর্তৃপক্ষ ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করার আশ্বাস দিয়েছে।

অন্য চারটি স্কুলে বিক্ষোভ উঠে গেলেও দুর্গাপুরের ডিএভি স্কুলে বিকেল পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে।

এক মাসের উপর পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল, দুর্গাপুর, বরাকর, রানিগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় বিভিন্ন বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। তাঁদের কথায় বিগত পাঁচ মাস ধরে স্কুল বন্ধ। তা সত্ত্বেও স্কুল কতৃর্পক্ষ ল্যাব ফি, কম্পিউটার ক্লাস বাবদ ফি, লাইব্রেরি ফি এমনকি বিদ্যুতের খরচও নিচ্ছে। তাঁদের মতে এই সব খাতে টাকা চেয়ে স্কুলগুলি আদতে অবৈধ কাজই করছে।

বহু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতে পাঠাচ্ছেন ভবিষ্যতে তাদের চাকরি পেতে সুবিধার কথা ভেবে। অভিভাবকদের কথায়, স্বাভাবিক নিয়মে যতটুকু ফি নেওয়া উচিত তা তাঁরা দিতে প্রস্তুত কিন্তু পাঁচ মাস ধরে স্কুল বন্ধ। বাড়িতে বসে অনলাইন ক্লাস করার জন্য তাঁদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। ইন্টারনেটের পাশাপাশি স্মার্ট ফোনের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জোর করে ফি বাড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁরা স্কুলের কাছে আবেদন করছেন যাতে স্কুল ফিজ কিছুটা মকুব করতে। যদিও স্কুলগুলি তার জবাবে বলছে, অন্য সব স্কুল যদি ফি মকুব করে তাহলে সেই স্কুলও করবে।

You might also like