Latest News

মোদীকে খুশি করতেই সনিয়ার ডাকা মিটিংয়ে যাচ্ছেন না মমতা: অধীর-সোমেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে মোদী সরকারের উপর আরও চাপ বাড়াতে আগামী ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে বৈঠক ডেকেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। কিন্তু বাংলায় বনধের জন্য বাম-কংগ্রেসকে দুষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করলেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।

অধীর চৌধুরী বলেন, “আমি তো আগেই বলেছিলাম ওনার প্রতিবাদ আসলে ফাঁপা। লোক দেখানো। কংগ্রেসের ডাকা মিটিংয়ে গেলে যদি মোদী-অমিত শাহ চটে যান, তাই বনধের অজুহাত দিচ্ছেন”। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী ১১ তারিখ কলকাতায় আসছেন। সরকারি অনুষ্ঠান রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী সুড় সুড় করে ঠিক পৌঁছে গিয়েছেন!”

কলকাতা বন্দরের এক অনুষ্ঠানে আসার কথা প্রধানমন্ত্রীর। ওই সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সৌজন্য ও রাজ্যের স্বার্থের জন্য ওই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়াটাই দস্তুর। তবে অধীরবাবুর বক্তব্য, “এই সব সৌজন্য বা রাজ্যের স্বার্থ ভেবে কবে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? মনমোহন সিং জমানা থেকে উনি যোজনা কমিশন বা এনডিসির মিটিংয়েও যেতেন না। মানুষ এখন সব বোঝে। দেখবেন বন্দরের অনুষ্ঠানে ঠিক এবার যাবেন মমতা। সেটিং ঠিক রাখতে হবে তো!”

অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও এদিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “লোকসভায় নাগরিকত্ব বিলের ভোটাভুটির সময় আট জন তৃণমূল সাংসদের অনুপস্থিত থাকা, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হস্টেলের হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পুলিশ দিয়ে পেটানো, বনধের আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে হুমকি সার্কুলার এবং বিজেপি বিরোধী বনধে পুলিশের আক্রমণ—এসবই মোদী সরকারকে বার্তা দেওয়ার জন্যই করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

আরও পড়ুন সনিয়াজির থেকে ‘মাফ চেয়ে নিচ্ছি, আমি দিল্লি যাব না’: মমতা

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিলেন অধ্যক্ষ। সেখানেই গতকালের ধর্মঘটের প্রসঙ্গ তুলে আনেন মমতা। তিনি বলেন, “আমরা ধর্মঘট মানছি না। যারা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছেন, তাদের বলছি, দিল্লিতে এক পলিসি, এখানে এক পলিসি মানব না।” তিনি আরও বলেন, “এনআরসি, এনপিআরের বিরুদ্ধে লড়ব। কিন্তু আপনাদের ( পড়ুন কংগ্রেস ও সিপিএম ) সঙ্গে থাকব না। বাস জ্বালিয়ে দেওয়া মেনে নেব না। সিপিএম, কংগ্রেস গুন্ডাগিরি করছে। এখানে ওরা যা করছে, তারপর আমি সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে একসঙ্গে কিছু করব না।”

এরপরেই ১৩ জানুয়ারির সর্বদল বৈঠকের কথা তুলে এনে মমতা বলেন, “এখানে বাম-কংগ্রেস যা করছে, তাতে আমি মাফ চেয়ে নিচ্ছি। দিল্লি যাব না।”

মমতার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বামেরাও। বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,“দিল্লির বস্-রা নিশ্চয়ই ওনাকে যেতে বারণ করেছেন তাই এই সিদ্ধান্ত নিলেন উনি।” তাঁর কথায়, আমরা গোড়া থেকেই বলছি তৃণমূল হল বিজেপির বি-টিম। দায়িত্ব নিয়ে বাংলায় বিজেপিকে জায়গা করে দিতে চান তৃণমূলনেত্রী।

You might also like