Latest News

রানিগঞ্জ থানার ১২ পুলিশকর্মী করোনা আক্রান্ত, ভর্তি দুর্গাপুরের হাসপাতালে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: পুলিশকর্মীদের মধ্যে একের পর এক করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বেগে প্রশাসন। কলকাতা, হাওড়ার পর এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ থানার ১২ পুলিশকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জ থানার আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের মধ্যে একজন সাব ইন্সপেক্টর, তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত এবং বাকিরা কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়ার। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরেই দুর্গাপুরের মলানদীঘিতে একটি কোভিড কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ওই পুলিশকর্মীদের।

এদিকে রানিগঞ্জ বাজারে একের পর এক ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফলে শনিবার রানিগঞ্জ শহরের সব দোকানপাঠ ছিল বন্ধ।

রবিবার থেকে রানিগঞ্জের দুটি ওয়ার্ডে সম্পূর্ণ লকডাউন শুরু হয়েছে। এই দুটি ওয়ার্ড থেকে আক্রান্তের খবর বেশি আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে পুলিশকর্মীদের আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এই ধরনের ঘটনায় রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছে প্রশাসন। কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা।

অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন পড়শি জেলা পূর্ব বর্ধমানের ডিএসপি (হেড-কোয়ার্টার) সৌভিক পাত্র। ডিএসপি-র করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহা সহ একাধিক পুলিশকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে বর্ধমানের বিসি রোডে একটি গোল্ডলোন সংস্থার অফিসে ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়েছিলেন ডিএসপি সৌভিক পাত্র। তার আগে এক বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করতেও গিয়েছিল তিনি। এই দুই ঘটনাতেই ডিএসপি-র সঙ্গে ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, আইসি সহ একাধিক পুলিশ কর্মী। এমনকি কয়েকজন সাংবাদিকও তাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে খবর। দিন তিনেক আগে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ছেলে কোভিডে আক্রান্ত হয়। তারপর থেকে তিনিও কোয়ারেন্টাইনে।

সংক্রমণ ছড়িয়ছে পূর্ব বর্ধমানের অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও। গত ১৩ জুলাই মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থেকে দুই রোগী হার্টের সমস্যা নিয়ে অনাময় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। কিছুদিন ধরেই তাঁদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যাচ্ছিল। দু’জনেই জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যান্য উপসর্গও ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তাঁদের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার সেই পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

হাসপাতাল সুপার ডক্টর শকুন্তলা সরকার জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর সংস্পর্শে আসায় ১০ জন ডাক্তার, ১৪ জন নার্স ও ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে হোম-কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের কার্ডিওলজি ইউনিট জীবাণুমুক্ত করার কাজ চলছে।

You might also like