Latest News

‘সব তীর্থ বার বার, গঙ্গাসাগর একবার’, মেলায় অনুমতি বহালে কটাক্ষ ফেসবুকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কঠোরভাবে কোভিড বিধি রক্ষার শর্তে এ বছর সাগরমেলায় সায় দিয়েছে আদালত। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে প্রশ্ন তুলছে জনতার আদালত। হাটে-বাজারে, ট্রেনে-বাসে, অফিসকাছারিতে মেলা করাতে রাজ্য সরকারের অবস্থানে আদালতের সম্মতিতে নিন্দার ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, মেলা জারি রাখার সিদ্ধান্ত আত্নঘাতী। জেনেবুঝে মানুষকে বিপদের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সমাজ মাধ্যমেও সরব হয়েছেন বহু মানুষ। রসিকতার মধ্যে ফুটে উঠছে মানুষের ক্ষোভ।

করোনার তৃতীয় ঢেউকে প্রথম থেকেই আগের দু-দফার থেকে কম বিপজ্জনক বলা হচ্ছে। কিন্তু তৃতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ মাত্রা এতটাই যে কোনও কোনও পাড়ায় প্রায় সব পরিবারেই কেউ না কেউ জ্বর-সর্দি-কাশিকে ভুগছেন। কোনও কোনও পরিবারে সব সদস্যই কোভিড আক্রান্ত, এমন ফ্যামিলি এখন আর হাতে গোনা নয়। ফলে রোজকার জীবন চালানোই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকে তাই বলছেন করোনার তৃতীয় থাবাকে ঢেউ না বলে ঘুর্ণিঝড় বলা ভাল। আগের দু-দফায় চিকিৎসা সংকট হলেও জনজীবন এবারের মতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে সব ধরনের মেলাই বন্ধ হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু সাগরমেলা, যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভিড় জমান, সেই মেলাও হচ্ছে। অনেকেরই বক্তব্য, পুলিশ, ডাক্তার, নার্সেরা একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন। কোবিড বিধি নিয়ে নজরদারি চালানোই এরপর কঠিন হয়ে পড়বে। একজন যেমন করোনা বিধির উপর নজরদারির দুর্দশা নিয়ে কটাক্ষ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজ করোনা বিধি মেনে পাড়ার পুকুরে স্নান করলাম। নজরদারিতে ছিল পাড়া কমিটি।’

সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ বলছেন, বর্ষবরণের অনুষ্ঠানই বিপদ বাড়িয়েছে। ওই অনুষ্ঠান বাতিল করে মানুষকে ঘরে আটকে রাখলে চলতি পরিস্থিতি তৈরি হত না। এখন আবার গঙ্গাসাগর মেলা বহাল রেখে দ্বিতীয় ভুল করা হচ্ছে। একজন তাই কঙ্কালের ছবি-সহযোগে কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার।’ রাজ্যের চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের এক নেতা রাজ্য সরকারের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, ‘মেলা হবে গঙ্গাসাগর, পানশালা খোলা রবে। খেলা হবে পুরভোটে, পাঠশালা বন্ধ রবে।’

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like