Latest News

মমতার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট, যা চাউর হচ্ছে সবটাই হাওয়ায়: প্রশান্ত কিশোর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor)  সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সম্পর্ক কি সত্যিই তলানিতে ঠেকেছে? দিদি কি সত্যিই আইপ্যাককে পত্রপাট বিদেয় করে দিয়েছেন? দু’জনের বাক্যালাপও কি বন্ধ?

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রসায়নে সাম্প্রতিক উথালপাতাল, নেতানেত্রীদের মন্তব্য ইত্যাদি, প্রভৃতি নিয়ে যখন বাংলার রাজনীতিতে এ হেন প্রশ্ন উঠছে তখন তাতে জল ঢালতে চাইলেন স্বয়ং প্রশান্ত কিশোর। ‘দ্য ওয়্যার’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর সঙ্গে দিদির সম্পর্ক বা তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যা বলা হচ্ছে তা সবটাই কল্পনাপ্রসূত। শুধুমাত্র হেডলাইন দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে।

আমিনুল, আনিসের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ মমতার, চর্চায় ফিরছে রিজওয়ানুরকে নিয়ে বুদ্ধদেবের ভুল

উনিশের লোকসভার পর ভোট পরামর্শদাতা হিসেবে প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর সংস্থা আইপ্যাকে সঙ্গে চুক্তি করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সে বছর জুন মাসে হঠাৎ এক বিকেলে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন পিকে। তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, সেই বছর জুন মাসে তৃণমূল তথা দিদির সঙ্গে আমার যুক্ত হওয়ার পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই রটিয়ে দেওয়া হয় আমি নাকি তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া ভেঙে বেরিয়ে বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া  বাঁধছি। তা কি হয়েছিল? তিনি এও বলেন, এ বারে কী হল? প্রথমে বলা হল, আমার সঙ্গে দিদির গণ্ডগোল। তারপর বলা হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিদির বিবাদ। সেখানেও থামল না। রটিয়ে দেওয়া হল, আমার এবং অভিষেকের সঙ্গে দিদির ঝামেলা। এও বলা হল, আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য অভিষেককে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই তো অভিষেককেই তো আবার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

অনেকের মতে, প্রশান্ত বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, তাঁর সঙ্গে মমতার সম্পর্কের শৈত্য নিয়ে যে চর্চা চলছিল তা ভিত্তিহীন। এবং পরোক্ষে এও বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি এখনও তৃণমূলকে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সেই মতোই দল চলছে। তাই অভিষেকই সাধারণ সম্পাদক। এবং একাই।

ওই সাক্ষাৎকারে প্রশাসনকে একটি বাংলা সংবাদপত্রের নাম করে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর সঙ্গে মমতার টেক্সট চালাচালির খবর নিয়ে। তিনি এক্ষেত্রেও স্পষ্ট করে বলেন, ওসব ভিত্তিহীন। এবং এও বলেন, সংবাদমাধ্যম স্বাধীন ভাবে তাঁদের কথা লিখতেই পারেন। কিন্তু তাঁদের এটাও লেখা উচিত, অতীতেও তাঁরা অনেক অনুমান করেছিলেন, কিন্তু কিছুই মেলেনি। সেইসঙ্গে বিদ্রুপের সঙ্গে হাসতে হাসতে পিকে বলেন, আমার সঙ্গে দিদির কিংবা নীতীশ কুমারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল না খারাপ, ভালর মাত্রা কমছে না বাড়ছে সেটা মাপার থার্মোমিটার কোথায় যে পাচ্ছে লোকজন কে জানে!

সম্প্রতি গোয়া তৃণমূলের প্রধান কিরণ কাণ্ডেলকর বলেছেন, প্রশান্ত কিশোর যা করেছেন ভোটে তাতে তিনি তিতিবিরক্ত। সেই প্রসঙ্গেও সাক্ষাৎকারে পিকে বলেছেন, আমি গোয়ায় ছিলাম শুধুমাত্র ভোটটা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। তৃণমূলের প্রচারে ছিলাম না।

সাক্ষাৎকারের নির্যাস যদি বের করা যায় তা হল এই যে, তৃণমূল এবং দিদির সঙ্গে পিকের সম্পর্ক অটুট। কোনও ওঠাপড়া তাতে নেই। যেমন ছিল সবটা তেমনই রয়েছে।মাঝে যা চাউর হয়েছিল, সবটাই নাকি হাওয়ায়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like