Latest News

পেট চালাতে দেশি মদ বেচতেন মহিলারা, বিকল্প আয়ের পথ দেখাচ্ছে ঝাড়খণ্ড সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে দেশি তৈরি করে বেচতেন সুশীলা দেবী। ছ’জনের সংসার। বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়েগুলোর মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে এটাই ছিল তাঁর একমাত্র রোজগারের পথ। টানা সাত বছর এই কাজ করেছেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও। এখন নতুন করে বাঁচার রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন। সুশীলা এখন ছোটখাটো একটা মুদির দোকান চালান। সৎ পথে পরিশ্রম করে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে যায়, মনেও শান্তি থাকে। লোকজনের বাঁকা কথা হজম করতে হয় না।

সুশীলা দেবী একা নন। ঝাড়খণ্ডে এমন অনেক মহিলাকে স্বনির্ভর করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। নতুন নতুন প্রকল্প তৈরি হয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে নিজেদের ব্যবসা শুরু করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের। আত্মনির্ভর করে তোলার প্রয়াস শুরু হয়েছে রাজ্যের সর্বস্তরে।

The spirit of mahua

রাঁচির আপারকোঙ্কি গ্রামে বাড়ি সুশীলা দেবীর। ৪৫ বছরের সুশীলা জানিয়েছেন, টানা সাত বছর দেশি মদ বিক্রি করেছেন তিনি। রাস্তার ওপরেই ছিল ঝুপড়ি দোকান। বাড়িতেই হাঁড়িয়া, মহুয়া তৈরি করতেন। অবৈধ উপায় রোজগার হচ্ছে জানতেন, কিন্তু সংসার চালাতে আর কোনও বিকল্প উপায় ছিল না তাঁর কাছে। বহু মানুষের কটূক্তি হজম করতে হয়েছে। কিন্তু এখন সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচেন তিনি। সৎ পথে রোজগারের এই রাস্তা দেখিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকারের ফুলো-ঝানো আশীর্বাদ অভিযান।

सीएम के हाथों झारखंड को मिलेगी 3 सौगातें: फूलो झानो आशीर्वाद योजना, आशा और पलाश से खुलेगी तरक्की की राह – NEWSWING

সুশীলার মতো প্রায় ১৫,৪৫৬ জন মহিলা এই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রই জানাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে অনেক মহিলাই গার্হস্থ্য হিংসার শিকার। মদ্যপ স্বামীর মার খেয়ে মুখ বুঝে দেশি মদের ব্যবসায় নামতে বাধ্য হন। প্রসঙ্গত বলা যায়, ঝাড়খণ্ডের অনেক মহিলাই বিগত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের দেশি মদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। জাতীয় ক্যারাটে আইকন রাঁচির বিমলা মুণ্ডাকে ফুটপাথে নেমে দেশি মদ বেচতে দেখা গিয়েছিল। লকডাউনে সংসার চালাতে এই পেশায় নামতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। লজ্জায় মাথা নত হয়েছিল দেশের।

Jharkhand: 'फूलो झानो आशीर्वाद योजना' से बदलेगी महिलाओं की किस्मत, सरकार ने महिला सशक्तिकरण के लिए की ये पहल

ঝাড়খণ্ড সরকার জানিয়েছে, এই মহিলাদেরই অন্ধকার জীবন থেকে তুলে এনে আলোর পথ দেখানোই লক্ষ্য এই প্রকল্পের। এই প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী কাজ করে। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে এই ধরনের মহিলাদের বোঝানোর চেষ্টা করে। মদের ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প পথে রোজগারের দিশা দেখায়। ১০ হাজার টাকা অবধি ঋণ দেয় সুদ ছাড়াই। জানা গেছে, অন্তত ১৩ হাজার মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে দেশি মদের ব্যবসা ছেড়েছেন। ঋণ নিয়ে তাঁরা মুদির দোকান, ডেয়ারি, চাষাবাদ, ফুল চাষ, সবজি বিক্রির মতো বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছেন।

নবজীবন সখি নামে আরও একটি প্রকল্পেও উপকৃত হচ্ছেন মহিলারা। ছাত্রা জেলার কোরি গ্রামের সবিতা কুমারী বলেছেন, আগে বাড়িতেই দেশি মদ তৈরি করে বেচতেন। তাঁর মতো গ্রামের আরও ২১ জন মহিলাও একই কাজ করতেন। নবজীবন সখি প্রকল্পই তাঁদের পথ দেখায়। এখন সবিতা পোলট্রি ফার্ম চালান। রোজগারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে সমাজে সম্মানও।

এই ছবিটা শুধু ঝাড়খণ্ডের নয়। গোটা দেশেই বহু মহিলাকে সস্তার মদ বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। এটা কমবেশি সব রাজ্যেই আছে। এই মহিলাদের বিকল্প উপার্জনের পথ দেখিয়ে স্বনির্ভর করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে অনেক রাজ্যেই।

You might also like