Latest News

হাতের টাকা থেকে কি ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস? কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি ব্যবসায়ী সংগঠনের

টাকাপয়সা থেকে কুষ্ঠ ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কা করে কুষ্ঠরোগীদের কলোনিতে ব্যবহারের জন্য বেশ কয়েকটি দেশ কয়েন ও কাগজের কুপন তৈরি করেছিল যেগুলি ওই কলোনির বাইরে শুধু ব্যাঙ্কে ভাঙানো যেত।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউন পর্বে পর্বে শিথিল হওয়ার পরে আনলক পর্ব শুরু হয়ে গেছে। বাস-ট্রেন সেভাবে না চললেও সব ব্যবসা প্রায় শুরু হয়ে গেছে। তাতে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। টাকাপয়সার লেনদেন সবচেয়ে বেশি তাঁদের হাত দিয়ে হয়। তাই তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন কারেন্সি নোট ও কয়েনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা আছে কিনা। থাকলে তা থেকে বাঁচার উপায় কী।

কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি) চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনকে। তাতে বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক রিপোর্টের কথা তারা উল্লেখ করেছে যেখানে কারেন্সি নোটের মাধ্যমে জীবাণু ছড়ানোর কথা বলা হয়েছে। টাকাপয়সার মাধ্যমে রোগজীবাণু ছড়ানোর উদাহরণের কথা উল্লেখ করে তাঁরা জানতে চেয়েছেন, এর মাধ্যমে কোভিড ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে কিনা। এক হাত থেকে অন্য হাতে সবচেয়ে বেশি ঘোরে তো টাকাই।

যদি সরকার দেখে যে টাকাপয়সার মাধ্যমে কোভিড ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে তাহলে তা থেকে ব্যবসায়ীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষ কী ভাবে সতর্ক হবেন সে ব্যাপারে সরকারি নির্দেশিকা ব্যবসায়ীরা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে।

সিএআইটি জাতীয় সভাপতি বিসি ভারতীয়া এবং সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল বলেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে দ্রুত হাত বদল হওয়ার কারণে কারেন্সি নোট মারাত্মক ভাবে রোগজীবাণু বহন করে। এজন্য স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে টাকাপয়সাকে রোগজীবাণু বহনকারী ভয়ানক উপকরণ বলা চলে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে তিনটি রিপোর্টের কথা তারা উল্লেখ করেছে। ২০১৫ সালের লখনৌয়ের কিং জর্জস মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি ৯৬টি ব্যাঙ্কনোট ও ৪৮টি কয়েন নিয়ে পরীক্ষা করে জানিয়েছিল সেগুলি নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসে পরিপূর্ণ। ২০১৬ সালে তামিলনাড়ুতে ডাক্তার, ব্যাঙ্ক, বাজার, মাংসবিক্রেতা, ছাত্রছাত্রী ও গৃহবধূদের থেকে ১২০টি নোট সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে ৮৬.৪ শতাংশ নোটে এমন জীবাণু রয়েছে যা থেকে রোগ সংক্রমিত হতে পারে। ওই বছরই কর্নাটকে একটি সমীক্ষা হয়েছিল। ১০০ টাকা, ৫০ টাকা, ২০ টাকা ও ১০ টাকার একশোটি নোট নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে তার মধ্যে ৫৮টি নোট ‘দূষিত’।

আমাদের দেশে কার্ডে বা অনলাইন কেনাকাটার চেয়ে অনেক বেশি কেনাকাটা হয় বাজার-দোকানে গিয়ে নগদ টাকায়। তাই এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। ব্যবসায়ী মহলের এই উদ্বেগ মনে করিয়ে দেয় গত শতকের গোড়ার একটি ঘটনা। তখন টাকাপয়সা থেকে কুষ্ঠ ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কা করে কুষ্ঠরোগীদের কলোনিতে ব্যবহারের জন্য বেশ কয়েকটি দেশ কয়েন ও কাগজের কুপন তৈরি করেছিল যেগুলো ওই কলোনির বাইরে শুধু ব্যাঙ্কে ভাঙানো যেত। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বন্দোবস্ত চালু ছিল বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে।

দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়াতে প্রথম কুষ্ঠ রোগীদের জন্য আলাদা করে কয়েন (সেন্টাভোস) তৈরি হয়েছিল। ফিলিপিন্সেও হয়েছিল এমন কয়েন যেখানে বিশেষ চিহ্ন থাকত। অনেক দেশে অবশ্য কাগজের কুপন তৈরি হয়েছিল এই কলোনির জন্য। ১৯৫০-এর দশকে যখন প্রমাণ হয়ে যায় টাকাপয়সা থেকে কুষ্ঠ ছড়ায় না তখন দ্রুত যথাসম্ভব কয়েন নষ্ট করে ফেলা হয়। পুড়িয়ে ফেলা হয় প্রায় সমস্ত কুপন।

কুষ্ঠরোগীদের জন্য কলম্বিয়ার আলাদা কয়েন

লকডাউন শুরুর পরে করোনাভাইরাসের ভয়ে অনেকে বাড়িতে খবরের কাগজ রাখাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন একই আশঙ্কা থেকে। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখিও হয়। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন খবরের কাগজ না হয় বন্ধ করা গেল কিন্তু টাকার ব্যবহার বন্ধ করা যাবে কী করে!

You might also like