Latest News

প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়ে এমার্জেন্সি ব্রেক কষি, পিছনে তখন সব লণ্ডভণ্ড, অভিজ্ঞতা বললেন লোকো পাইলট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুরন্ত গতিতে চলছিল ট্রেন।  গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার।  আচমকাই প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনি হয়, দু’বার এমার্জেন্সি ব্রেক কষতে হয়, ময়নাগুড়ির দোমহনিতে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার প্রতি মুহূর্তের কথা বললেন লোকো পাইলট প্রদীপ কুমার।

ময়নাগুড়ির  ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ট্রেন চালক জানালেন, আচমকাই বিরাট ঝাঁকুনি হয়। তখনই বিপদ আঁচ করেছিলেন তিনি। তবে পিছনে কী হচ্ছে তা সেই মুহূর্তে জানা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার কথা বলতে গিয়ে লোকো পাইলট বললেন, ট্রেন দুরন্ত গতিতে চলছিল। ঝাঁকুনি টের পাওয়ার পরে দু’বার এমার্জেন্সি ব্রেক কষেন তিনি।  পরে দেখা যায় ইঞ্জিনের একটি ট্র্যাকশন মোটর ভেঙে গেছে।

ট্র্যাকশন মোটর ইঞ্জিনের চাকাকে রেললাইনের সঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে। মোটরটি ভেঙে যাওয়ায় ট্রেনের চাকা বেলাইন হয়ে পড়ে। ফলে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়ে কামরাগুলি বেরিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকের সঙ্গে কথা বলেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার। রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও কথা বলছেন চালকের সঙ্গে।

চালক জানিয়েছেন, সমস্ত সিগন্যাল খোলাই ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্র্যাকশন মোটর ভেঙেছিল না আগে থেকেই ভাঙা ছিল তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিন সকালে ময়নাগুড়িতে পৌঁছন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি নিজে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেছি। আচমকা যান্ত্রিক ত্রুটির জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেক্ষেত্রে যে ইক্যুইপমেন্টগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলি সংগ্রহ করে ভাল করে খতিয়ে দেখা হবে। সেখানে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না। বেশ কিছু চিহ্নও পাওয়া  যেতে পারে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার শিকড়ে গিয়ে তদন্ত করা হবে।”

পাশাপাশি, রেলমন্ত্রীর আরও সংযোজন, “কোচের জন্য কোনও সমস্যা হয়নি। নতুন অত্যাধুনিক এলএইচবি কোচ অধিকাংশ ট্রেনেই চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে কোচের জন্য কোনও সমস্যা হয়নি। গোটা ঘটনাই তদন্ত করে দেখা হবে। আজই কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি তদন্ত  করে দেখবে। কিছু সময়ের মধ্যেই আধিকারিকরা পৌঁছে যাবেন।”

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like