Latest News

জেলের নথি হতাশাজনক, প্রেসিডেন্সি বন্দি নিখোঁজ মামলায় কমিটি গড়ার নির্দেশ আদালতের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিসিটিভি ফুটেজ কাজ করছে না, নথিপত্রও অসম্পূর্ণ, প্রেসিডেন্সি জেল থেকে বন্দি নিখোঁজ মামলায় জেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্টকে হতাশাজনক বলল কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট, জেলের রেজিস্টার সহ সমস্ত নথিপত্র সঠিকভাবে পেশ করার জন্য কমিটি গড়ার নির্দেশও দিলেন বিচারপতিরা।

প্রেসিডেন্সি জেল থেকে বন্দি নিখোঁজ মামলায় জেল সুপারকে তলব আগেই করেছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি বিভাসরঞ্জন দে-র অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটি চলছিল। বিচারপতিরা প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকে সিসিটিভি ফুটেজ ও নথি-সহ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নথিতে অসম্পূর্ণ তথ্য থাকায় ফের আজ শুক্রবার মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়।

বিচারপতিরা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, রেজিস্টারে সময়ের উল্লেখও নেই। বন্দিকে কখন রিলিজ করা হয়েছিল সে তথ্যও লেখা নেই। জেলবন্দি আসামিকে কোন নিয়মে ছাড়া হয়েছিল সে সম্পর্কে কোনও কিছুরই উল্লেখ নেই জেল কর্তৃপক্ষের পেশ করা নথিতে।

যে কোনও উচ্চপদস্থ অফিসারকে নিয়ে কমিটি গড়ে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, জেলের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কোনও সরকারি অফিসার বা কোনও আইপিএস অফিসারকে মাথায় বসিয়ে দুই সদস্যের কমিটি তৈরি করা হোক।  ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিল কভারে তদন্তের রিপোর্ট জমা করতে হবে।

গত ৬ ডিসেম্বর বেআইনি ভাবে দেশি মদ বিক্রির অভিযোগে বাগনানের বাসিন্দা ৫০ বছরের রঞ্জিত ভৌমিককে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ দিন ধরে জেলে ছিলেন তিনি। জামিন পাওয়ার দিনই জেল থেকে উধাও হয়ে যান রঞ্জিত। পরিবার জানায়, কিডনির কিছু সমস্যা থাকায় গত ১২ ডিসেম্বর রঞ্জিতকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। ২১ ডিসেম্বর উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালত থেকে জামিন পান রঞ্জিত। প্রেসিডেন্সি জেল থেকে বাবাকে আনতে যান ছেলে বুদ্ধদেব ভৌমিক। তাঁর অভিযোগ, এক ঘণ্টা বসতে বলে প্রায় চার ঘণ্টা তাঁকে বসিয়ে রাখেন জেল কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁরা জানান, আগের দিন রাত ৮টায় রঞ্জিতকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও রঞ্জিত বাড়ি ফেরেননি।

এর পরেই বাবার খোঁজ পেতে হেস্টিংস থানায় এফআইআর দায়ের করতে যান ছেলে। কিন্তু এফআইআর না নিয়ে আলিপুর থানায় যেতে বলে হেস্টিংস থানা। সেখানেও এফআইআর দায়ের করতে পারেননি বুদ্ধদেব। পর দিন ফের তিনি আলিপুর থানায় যান। তখন তাঁর এফআইআর নেয় পুলিশ। এই পুরো ঘটনায় পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় পরিবার।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like