Latest News

কংগ্রেস সম্পর্কে মমতার সুরে সুর মেলালো সিপিএম, দলের দলিলে কী বলল লালপার্টি?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএমের পার্টি কংগ্রেসের খসড়ায় কংগ্রেস সম্পর্কে যা লেখা হল, তা বলে না দিলে অনেকেই হয়তো ঠাওর করবেন তৃণমূলের কোনও নথি। অথবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বক্তৃতার টুকরো বোধহয়।

কী লিখেছে সিপিএম?

আগামী এপ্রিলে কেরলের কান্নুরে অনুষ্ঠিত হবে সিপিএমের ২৩ তম পার্টি কংগ্রেস। তার আগে জানুয়ারির গোড়ায় হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তার খসড়া গৃহীত হয়েছিল। শুক্রবার তা জনসমক্ষে আনল একে গোপালন ভবন।

তাতে লেখা হয়েছে ‘রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তির ক্ষয় হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে একের পর এক নেতা যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। মুখে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করলেও কার্যক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছে না আপসকামী মনোভাবের জন্য।’ সমস্ত ধর্মনিরেপক্ষ দলগুলিকে এক জায়গায় আনার প্রশ্নেও কংগ্রেস সঠিক ভূমিকা নিতে পারছে না বলে উল্লেখ হয়েছে পার্টি কংগ্রেসের দলিলে।

ঘটনা হল, গত বছর বাংলায় বিধানসভা ভোটের পর থেকে ঠিক এই কথাগুলোই ধারাবাহিক ভাবে বলে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি বিরোধিতায় কংগ্রেসের যে ভূমিকা নেওয়া উচিত তা তারা নিতে পারেনি। সেই কারণেই বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি যদি সঠিক ভাবে সেই ভূমিকা নিতে পারত তাহলে সারা দেশে এই ভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে বিজেপি রাজনীতি করতে পারত না।

সিপিএমের খসড়ায় কংগ্রেস সম্পর্কে এই মূল্যায়ণের কথা শুনে লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘সিপিএম কাগজে কলমে, তাত্ত্বিক আলোচনাতেই আছে। এই ভাবেই পার্টিটা উঠে যেতে বসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংসদের ভিতরে বাইরে বিজেপির বিরুদ্ধে কগ্রেস ছাড়া কে লড়ছে? আর সিপিএম যে দল বদলের রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছে এটা তো একটা সার্বিক অবক্ষয়। বাংলাতেও তো সিপিএমের বহু নেতা তৃণমূল, বিজেপিতে গিয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন খগেন মুর্মু। তিনি এখন বিজেপির সাংসদ। প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের স্নেহধন্য ছিলেন বঙ্কিম ঘোষ, তিনি আজকে বিজেপির বিধায়ক। ওরা আগে আয়নায় নিজের মুখ দেখুক।’

যদিও সিপিএমের খসড়ায় এও লেখা হয়েছে, বিজেপির পিছনে রয়েছে আরএসএস-এর মতো শক্তি। তাই বিজেপি ও কংগ্রেসকে এক বন্ধনীতে ফেলা যাবে না। যাই হোক, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোট (আঁতাত) হতে পারে না।”

গত পার্টি কংগ্রেস থেকেই সিপিএম সমদূরত্বের লাইন পরিত্যাগ করেছিল। তারপর বাংলায় বৈধ ভাবে অর্থাৎ দলের সিলমোহর নিয়ে একুশ সালে বিধানসভা ভোট লড়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে। কারণ, ষোল সালের আসন সমঝোতার বাংলার সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেনি কেন্দ্রীয় কমিটি। গত পার্টি কংগ্রেসে ঠিক হয়েছিল, সমস্ত ধর্মনিরেপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দলকে একত্রিত করে বিজেপিকে হারানোর চেষ্টা করবে সিপিএম। রাজ্যের পরিস্থিতি অনুযায়ী আসন সমঝোতার বিষয়টি ছেড়ে রেখেছিল একে গোপালন ভবন। তার ফলে কেরলে সিপিএম কংগ্রেস কুস্তি হলেও বাংলায় ছিল দেদার দস্তি। কিন্তু এবার পার্টি কংগ্রেসের প্রাক্কালে ফের একবার কংগ্রেসের ধর্মনিরেপেক্ষতাকে আপসকামী বলে উদ্ধৃত করল সিপিএম। এবং এও বলল রাজনৈতিক জোট করা যাবে না।

You might also like