Latest News

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বাড়ছে? বিশদে জানুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬৫ আছেই। তা আরও তিন বছর বাড়িয়ে ৬৮ করা হতে পারে। রাজ্যের কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে এমনই খবর ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষা মহলে। সেই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে গোটা শিক্ষা মহলে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক অবসরের বয়স বৃদ্ধির বিরুদ্ধে। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী দিনে সরকারের আর্থিক অবস্থা এতটাই সংকটে পড়তে পারে যে অবসরকালীন পাওনাগণ্ডা পেতে সমস্যা হতে পারে। তাই ৬৫ তেই অবসর চান তাঁরা।

শিক্ষা দফতর এবং শিক্ষামন্ত্রী অফিস এই ব্যাপারে মুখ না খুললেও প্রশাসনিক মহলে ঘোরাফেরা করছে সরকারের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত। তাহল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা আরও তিন বছর বাড়তে চলেছে। অর্থাৎ ৬৫-র জায়গায় ৬৮ করা হতে পারে।

নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের আর্থিক সংকট চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার খরচের বোঝা কমাতে চাইছে। অবসরের বয়স বৃদ্ধি করলে অনেকটা খরচ কমে।

কারণ, সরকারের বাধ্যতামূলক খরচের সবচেয়ে বড় বোঝা হল বেতন ও পেনশন। নতুন নিয়োগ না হলেও মহার্ঘ ভাতা মেটাতে বছর বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার বোঝা চাপে। এই পরিস্থিতিতে অবসরকালীন পাওনার দায় কমানো সম্ভব অবসরের বয়স কয়েক বছর বাড়িয়ে দিলে তাতে বেতন খাতে নতুন বোঝা চাপে না, কিন্তু অবসরকালীন পাওনা মেটানোর দায় কয়েক বছর মেটাতে হবে না। সেই টাকাটা বেচে যাবে।

আগামী ১ থেকে ৭ জানুয়ারি রাজ্য সরকার ছাত্র সপ্তাহ পালন করার সিদ্বান্ত নিয়েছে। এই বিষয়ে সরকারি অনুষ্ঠানটি হবে ৩ জানুয়ারি, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন। সেখানেই তিনি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বয়সসীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণা করতে পারেন বলে খবর শিক্ষমহলের।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৭০ করার সুপারিশ বহু বছর আগেই করেছে ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা ছিল ৬০ বছর। গত ১০ বছরে তা দু দফায় বৃদ্ধি করে ৬৫ করা হয়েছে। প্রথমে এই সিদ্ধান্ত বলবৎ হয়েছিল চিকিৎসক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। পরে সাধারণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ রাজ্য সরকার জারি করে।

ইউজিসির বক্তব্য, উচ্চশিক্ষায় অভিজ্ঞতা বিনিময় প্রয়োজন। তাই শারীরিকভাবে এখন যেহেতু প্রায় ৭০ বছর পর্যন্ত মানুষ কর্মক্ষম থাকেন, সেই কারণে শিক্ষকদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো যেতে পারে।

তবে এ রাজ্যে আরও একটি কারণে দু-দফায় অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো হয়। তাহল, এর ফলে অবসরকালীন ব্যয়ভার সাময়িক লাঘব হয়। অবসরের বয়স যত বছর পিছবে তত বছরে যাদের অবসর নেওয়ার কথা তাদের অবসরকালীন পাওনাগণ্ডা মেটাতে হবে না। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পাওনার পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। অতীতে অর্থ সংকটের কারণেই এই উপায় অবলম্বন করে বামফ্রন্ট সরকার সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৮ থেকে দু বছর বৃদ্ধি করে ৬০ করেছিল।

তবে এখনও স্পষ্ট নয়, রাজ্য সরকার উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষকদের অবসরের বয়স বৃদ্ধি করছে কিনা।
যদিও সরকারি ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলি বলছে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে এর ফলে নবীনদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে যেন ভাটা না পড়ে। শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশেরও একই বক্তব্য। তারা বলছে, সরকার অবসরের বয়স বাড়ালেও যেন নতুন নিয়োগ বন্ধ না থাকে। ধারাবাহিকভাবে যেন নিয়োগের কাজ চলে।

সংগঠন গুলির একাংশের আরও বক্তব্য, সরকার যদি অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৬৮ করে তাহলে শিক্ষকদের আগাম অবসরের সুযোগ দিতে হবে। যাতে চাকরি করতে অনিচ্ছুক শিক্ষকেরা অবসর নিতে পারেন। সেই সঙ্গে তাদের আরও বক্তব্য, বয়সসীমা বৃদ্ধির ফলে যেন অবসরকালীন ভাতা পেনশন ইত্যাদি পেতে কোন সমস্যা না হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্য বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি দিয়ে সম্ভাব্য সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেছেন, নতুন ছেলেমেয়েদের শিক্ষকতায় আসার পথ যেন রুদ্ধ না হয়ে যায়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like