Latest News

‘পকেটে সাপ’, কাছে থাকলে মৃত্যুহার কমবে অচিরেই! ক্যানিংয়ে নতুন উদ্যোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিং নেই, নখ নেই, ঘিলু নেই, বুকে হেঁটে চলে এমন এক প্রাণী, তবু সাপের নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন বহু মানুষ। সে সাপের বিষ থাকুক বা নাই থাকুক! আর এই অমূলক ভয় আখেরে মৃত্যু ডেকে আনছে, মানুষ তো মরছেই, মরছে সাপও, এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সাপ নিয়ে ভীতি দূর করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। তাই ছোটবেলা থেকেই সাপ একটা বিষয় হয়ে উঠুক, সাপকে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা হোক, এমনটাই দাবি তুলছেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক-সহ ক্যানিংয়ের যুক্তিবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা।

‘সাপের কামড়ে আর একটিও মৃত্যু নয়’, এই স্লোগান বাস্তবায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে ক্যানিংয়ের যুক্তিবাদীরা প্রকাশ করে ফেলেছেন ‘পকেটে সাপ’ নামক একটি বই, যেটিকে সাপের অভিধান বললে ভুল বলা হবে না। সেই বই পড়ে সহজেই জানা যাবে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। জানা যাবে, কোন সাপে বিষ আছে বা নেই, কিংবা কোন বিষধর সাপ কামড়ালে কী করতে হবে।

সেই ‘পকেটে সাপ’ বইটি প্রকাশের পাশাপাশি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্নেকবাইট ট্রেনিং হলে একটি সেমিনারের আয়োজন হয়। সেখানে বেশ কিছু স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের হাতে বইটি তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে সাপের ছোবলে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সুন্দরবন এলাকাতেই। বিশেষ করে চিকিৎসা না করিয়ে ওঝার দ্বারস্থ হওয়ার জন্য মৃত্যুর সংখ্যা আরওই বাড়ছে বলে জানান ডাক্তাররা। সর্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন সাপ বিষধর, কোন সাপে বিষ নেই সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা না থাকায় অহেতুক আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় যত সংখ্যক মানুষের সাপের ছোবলে মৃত্যু হয়েছে তার সমস্তটাই প্রায় কালাজ সাপের দরুন। ডাক্তাররা জানান, কালাজ সাপ ছোবল দিলে ক্ষতস্থানে দাগ প্রায় থাকেই না, কেবল জ্বালা করে। ফলে বোঝা মুশকিল।

প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর ধরে সাপ নিয়ে সচেতনতা প্রচারের কাজ করে চলেছে ক্যানিং যুক্তিবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা। সাপের ছোবলে মৃত্যু আটকানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাঁরা। তারপরও ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে প্রতিদিন সাপে কাটা রোগী আসে। মৃত্যুহারও যথেষ্ট আশঙ্কাজনক।

দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা এবং ক্যানিং যুক্তিবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে পকেটে সাপের মতো একটা বই যে কতটা জরুরি হতে পারে তার প্রমাণ কিছুদিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সাপ সম্পর্কে অবগত হলে আখেরে লাভ হবে সমাজের। কমবে মৃত্যুহারও। এ ছাড়াও যদি সাপ সম্পর্কিত তথ্য পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাহলে অচিরে সাপের ছোবলে মৃত্যু রোখা যাবে।

You might also like