Latest News

Nadia Murder: মোটরবাইক দেননি শ্বশুর, শিঙাড়া মুখে ঠুসে ছোট্ট শ্যালককে খুন করল জামাইবাবু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পর থেকেই মোটরবাইক দাবি করছিল জামাই। শ্বশুর তা দিতে না পারায় স্ত্রীয়ের ওপর চলছিল অত্যাচার (Nadia Murder)। সেই রাগেই ছ’বছরের ছোট্ট শ্যালকের মুখে শিঙাড়া ঠুসে গলা টিপে খুন করল জামাইবাবু। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার থানারপাড়ায়। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানাচ্ছে, ধৃতের নাম সোহেল শেখ। বাড়ি থানারপাড়া থানা এলাকার সাহেবপাড়ার মালিতা পাড়ায়। জামাইবাবুর বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোর। পরে তার পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে থানারপাড়া থানা পুলিশ। দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে চাঞ্চল্য়কর তথ্য় পায় পুলিশ। জানা যায়, বিয়েতে যৌতুক হিসাবে মোটরবাইক না পেয়ে ক্ষোভে ছয় বছরের শ্যালকের মুখে শিঙাড়া ঠুসে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে সোহেল।

মৃত শিশুটির নাম দিল ইসলাম (৬) তার বাড়ি বিহারের পূর্ণিয়া জেলার গটপুর গ্রামে (Nadia Murder)। সাড়ে তিন মাস আগে বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনিরুল এর মেয়ে শাহাজাদী বিবির সঙ্গে বিয়ে হয় সোহেলের। বিয়ের সময় শ্বশুরের কাছে মোটরসাইকেল চেয়েছিল সোহেল। শ্বশুরবাড়ি থেকে তা দিতে না পারায় এই নিয়ে মাঝেমধ্যে শাহাজাদীর সঙ্গে তার ঝামেলা হত। বিয়ের পর প্রথম বার এক মাস আগে শাহাজাদী বিহারে পূর্ণিয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়।

কয়েকদিন আগে সোহেলের বাবা সহিদুল শেখ বৌমাকে আনতে বিহারে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় শাহাজাদীর ছোট ভাইও দিদির সঙ্গে তাঁর বাড়িতে আসে। বাবার বাড়ি থেকে আসার সময় সোহেলের স্ত্রী মোটরসাইকেল না নিয়ে এসে ভাইকে নিয়ে আসায় স্ত্রীকে মারধর করতে শুরু করে সোহেল। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ হয়।

গত বুধবার বিকেলে শিশুটিকে নিয়ে ধোড়াদহ বাজারে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় সোহেল। তারপর থেকে বাচ্চাটার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই খোঁজাখুঁজি শুরু করে সোহেল। এমনকি বৃহস্পতিবার নিজের পয়সা খরচ করে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করছিল সে।

সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে সব জানান শাহাজাদী। পুলিশ খোঁজাখুঁজি করতেই শিশুটির পচাগলা দেহ মেলে ফুলবাড়ি নদীর ধারে জঙ্গলের মধ্যে। ধোড়াদহ বাজারে এক ব্যবসায়ীর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বুধবার রাত দশটা নাগাদ সোহেল সাইকেলে চেপে শিশুটিকে কাঁধে করে জলঙ্গী নদীর দিকে যাচ্ছে। এরপর সোহেলকে পাকড়াও করে জেরা করতেই সত্যিটা সামনে আসে।

অপরাধ স্বীকার করে সোহেল। পুলিশকে সে জানায়, শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী মোটরসাইকেল না এনে শ্যালককে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে, সেই ক্ষোভে শিশুটিকে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে ধোড়াদহ বাজারের কাছে স্কুলের পাঁচিলের আড়ালে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। খুনের পর কেউ যাতে সন্দেহ না করে তার জন্য সাইকেলে করে নিয়ে গিয়ে জলঙ্গি নদী পেরিয়ে মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকার দিকে ফুলবাড়ি নদীর পাড়ে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেয়।

ছেলে নিখোঁজের খবর পেয়ে বিহার থেকে সোহেলের শ্বশুর মোহম্মদ মনিরুল মোটরসাইকেলে চেপে তার আরেক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার থানারপাড়া জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছয়। ঘটনার কথা জানতে পেরে দেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

Vyapam Scam-SSC: মধ্যপ্রদেশের ‘ব্যাপম’ কেলেঙ্কারি কী, যার সঙ্গে বাংলার গ্রুপ-সি দুর্নীতির মিল পেলেন গোয়ালিয়রের তরুণ

You might also like