Latest News

মণ্ডপসজ্জা, পুষ্পাঞ্জলি থেকে প্রতিমা দর্শন, একগুচ্ছ নিয়ম বেঁধে দিল নবান্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার (Covid) তৃতীয় ঢেউয়ের আতঙ্কের মধ্যেই দুর্গাপুজো (Durga Puja)। হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। কলকাতার বড় পুজো মণ্ডপগুলির প্রস্তুতিও তুঙ্গে। কোভিড বিধি মাথায় রেখেই মণ্ডপে ঘুরবেন দর্শনার্থীরা। সে অনুমতি মিলেছে, তবে করোনার কথা মাথায় রেখে কড়া বিধিনিষেধও জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। জনসাধারণের প্রতিমা দর্শন যাতে নিরাপদে ও সুরক্ষা বিধি মেনে হয় তার জন্য একগুচ্ছ নিয়ম বেঁধে দিয়েছে নবান্ন (Nabanna)। পুজো কমিটিগুলি তো বটেই সাধারণ মানুষকেও অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে সেইসব নিয়ম।

পুজো কমিটি ও দর্শনার্থীদের জন্য কী কী নিয়ম জারি করেছে রাজ্য সরকার—

১) মণ্ডপসজ্জা হবে নিয়ম মেনে

  • নবান্নের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, পুজো মণ্ডপের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে।
  • চারদিক থেকে খোলা হলে বেশি ভাল। কোনওভাবেই ভিড় বা ঘেঁষাঘেঁষি করা চলবে না।
  • মণ্ডপের ভেতরে যেন পারস্পরিক দূরত্ব মেনে থাকা যায়।
  • প্রতি মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার পথ আলাদা রাখতে হবে। অনেক পুজো মণ্ডপ এই নিয়ম মানলেও সব জায়গায় তা হয় না। মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনোর একটাই পথ থাকার কারণে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এবার সেদিকটা খেয়াল রাখার কথা বলা হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে।

২) মাস্ক-স্যানিটাইজার মাস্ট

  • মণ্ডপের ভেতরে যে স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন তাঁদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে। মাস্ক ছাড়া মণ্ডপে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  • দর্শনার্থীদের জন্যও পর্যাপ্ত ফেস-মাস্কের ব্যবস্থা রাখতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে।
  • মণ্ডপের কাছে মাস্ক ছাড়া যে দর্শনার্থীরা আসবেন তাঁদের মাস্ক বিলির দায়িত্ব নিতে হবে সেই পুজো কমিটির কর্তৃপক্ষকেই।


৩) পুজোর বিধিতেও কোভিড-সতর্কতা

  • হাইকোর্ট এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বড় পুজোর ক্ষেত্রে মণ্ডপের ভিতরে থাকতে পারবেন সর্বাধিক ৬০ জন। ছোট পুজোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ জন।
  • ছোট পুজোর প্যান্ডেলের বাইরে পাঁচ মিটার ও বড় পুজোর প্যান্ডেলের বাইরে দশ মিটার দূরে ব্যারিকেড রাখতে হবে।
  • দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাঁটতে হাঁটতেই তাঁদের প্রতিমা দর্শন করতে হবে। এই নিয়ম যাতে মেনে চলা হয় তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে স্বেচ্ছাসেবকদের।
  • মণ্ডপ চত্বরে আসা দর্শনার্থীরা যাতে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে দর্শন করেন সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
  • পুজোর বিধিও কোভিডের নিয়ম মেনেই করতে হবে। সিঁদুর খেলা, অঞ্জলি দেওয়া, প্রসাদ বিতরণ, ঢাক বাজানো সব কোভিড গাইডলাইন মেনে হবে।
  • ঢাকিরা মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে ঢাক বাজাতে পারবেন, ‘নো-এন্ট্রি’ জ়োনে ঢুকতে পারবেন না।
  • পুজো করবেন যে পুরোহিত তিনি মন্ত্র বলবেন মাইকে যাতে অনেক দূর অবধি শোনা যায়। এই মন্ত্র শুনেই অঞ্জলি দিতে হবে, মণ্ডপের ভেতরে ঢোকা যাবে না।
  • দর্শনার্থীদের অঞ্জলির ফুল আনতে হবে বাড়ি থেকেই। ফুল বিতরণের সময় যাতে ঘেঁষাঘেঁষি, হুড়োহুড়ি না পড়ে যায় তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

৪) আলাদা করে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না। মণ্ডপের আশপাশে স্টেজ বেঁধে কোনও জমায়েত হবে না।

৫) বিচারক মণ্ডলীর জন্য বিধি

কোন পুজোর প্রতিমা সেরা, কোন পুজোর মণ্ডপসজ্জা বা আলোকসজ্জা, তা ঠিক করতে বিচারকদের প্যানেল বসে। বিচারক মণ্ডলীর সদস্যেরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে তা নির্ণয় করেন। এবার তা হবে বিধি মেনে। নবান্ন বলেছে, গোটা ব্যাপারটাই ভার্চুয়ালি হলে ভাল না হলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যেমন সকাল ১০ থেকে বিকেল ৩টের মধ্যেই মণ্ডপে ঢোকা যাবে।

৬) জনসাধারণকে সতর্ক করবে পুলিশ ও মিডিয়া

পুজো মণ্ডপের বাইরে যাতে ভিড় উপচে না পড়ে তার জন্য সর্বক্ষণ মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। রাস্তায় নেমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করবেন পুলিশকর্মীরা। ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়াকেও দায়িত্ব নিতে হবে জনগনকে সতর্ক ও সচেতন করার।

৭) পুজো উদ্বোধনের সময় যাতে ভিড় কম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। কম লোকজনকে নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আড়ম্বরে উদ্বোধনের অনুষ্ঠান করতে হবে। সেক্ষেত্রে মাস্ক, স্যানিটাইজার, পারস্পরিক দূরত্ব মানতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও একই ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। যে ঘাটে বিসর্জন হবে আগে থেকে তা স্যানিটাইজ করে রাখতে হবে। বিশাল মিছিল করা চলবে না।

৮) করোনার কারণেই এ বছর পুজো কার্নিভাল হবে না।

৯) পরিষেবায় ছাড়—সরকারপক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা পুজো কমিটি ও উদ্যোক্তাদের বিশেষ কিছু পরিষেবায় ছাড় দেবেন। যেমন জরুরিকালীন অবস্থার জন্য দমকল পরিষেবা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

বিদ্যুত পরিষেবাতেও ছাড় আছে।

প্রতিটি ক্লাবকে রাজ্য সরকারের তরফে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

পুলিশ ও প্রশাসন সর্বক্ষণ সহযোগিতার জন্য তৈরি থাকবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like