Latest News

ইটের ঘায়ে যন্ত্রণায় বেঁকে যাচ্ছেন মুকুল, ক্ষত হাতের আংটি কাটতে শেষে অসিলেটিং কাটার আনতে হল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল তখন ৯টা। নিউটাউনের ওয়েস্টিন হোটেলের টেন্থ ফ্লোরে ব্রেকফাস্ট লাউঞ্জে তখন বসে রয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাও ছিলেন ওই হোটেলে। দিল্লি থেকে কয়েক জন সাংবাদিক এসেছেন। প্রাতঃরাশ টেবিলে চায়ের কাপ হাতে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সম্বিত।

দুপুরে ডায়মন্ডহারবারে বিজেপি সভাপতির কর্মসূচি। ডায়মন্ডহারবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে সম্বিত বলছিলেন, কদিন আগে বাংলার বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সেখানে গেছিলেন। তাঁকে বেধড়ক মারা হয়, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তার পর তার হাত থেকে আংটি খুলছে না বলে, কেউ চেঁচিয়ে ওঠে— ‘এই দা টা নিয়ে আয়, হাতটাই কেটে নেব।’

এ সব বলতে বলতেই দুপুরে শিরাকোলের ঘটনা। সে ঘটনায় বিজেপির নেতাদের মধ্যে সবথেকে বেশি আহত হয়েছেন দু’জন। এবং দু’জনই সর্বভারতীয় সংগঠনের উচ্চ পদে রয়েছেন। সহ সভাপতি মুকুল রায় এবং সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কৈলাসের বাঁ হাতের কনুইতে ভালই চোট লেগেছে। মুকুল রায়ের ডান হাতের আঙুলে ফ্র্যাকচার। প্রায় সবকটা আঙুলই ফুলে গেছে। সেই সঙ্গে কাচের টুকরোয় কেটে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ দেখা গেল, মুকুলবাবু সল্টলেকের গেস্ট হাউসে সোফায় বসে যন্ত্রণায় প্রায় বেঁকে যাচ্ছেন। সাদা পাঞ্জাবির হাতায় রক্তের ছোপ কালো হয়ে গেছে। ডানহাতের মধ্যমায় একটা আংটি পরেন তিনি। আঙুল ফুলে যাওয়ায় সেটা এমন ভাবে চেপে বসেছে যে দুঃসহ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ছেন। ছেলে শুভ্রাংশুই তার পর বলেন, আংটি কেটে ফেলতে হবে।

কিন্তু কেটে ফেলতে হবে বললেই তো কাটা যায় না। কাছে-পিঠে স্যাকরার দোকান থেকে এক কারিগরকে ডাকা হয়। তিনি একটি হাতে ধরা একটা কাটার দিয়ে আংটি কেটে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে উল্টে ব্যথা বেড়ে যায়। শেষে একটি ইলেকট্রিক অসিলেটিং কাটার দিয়ে আংটিটি কেটে বের করতে হয়। রাতেই এক্স-রে হয় হাতের। তার পর মধ্যমা ও অনামিকা এই দুটি আঙুল বাডি টেপিং করে দেওয়া হয়।

কৈলাসের হয়তো এ হেন অভিজ্ঞতা নতুন। মুকুলবাবুদের নয়। বাংলার রাজনীতিতে এহেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেই পরিবর্তন এসেছিল। তবু মুকুলবাবু যেন ভাবতেই পারেননি, যে দল তাঁর প্রায় হাতে গড়া, তাদেরই ইটের ঘায়ে তাঁর হাতটাই একদিন ক্ষতবিক্ষত হবে। স্বগতোক্তির মতো বলে যাচ্ছিলেন, “আমি ভাবতেও পারিনি, এতটা হিংস্র হবে। অত বড় একটা ইট আমাকে ছুড়ে মারবে।”

মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠদের ধারণা, ‘দাদাকে টার্গেট করে রেখেছিল। গাড়িতে ইট মারার আগে ওদের চিৎকার করতে শোনা গিয়েছে, এই মুকুল রায়ের গাড়ি—মার মার মার।’

মুকুলবাবুর বরাবরই হাই সুগার রয়েছে। ৬৬ বছর বয়স। তার উপর এ ধরনের ক্ষত ভাল না। কদিন আগেই তাঁর গল ব্লাডারে স্টোন অপারেশন হয়েছে। তা থেকে পুরো সুস্থ হয়ে উঠতে না উঠতেই এই ইটের আঘাত।

You might also like